Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ভোটের পর হিংসা রুখতে গণনাতেও বদল? 'টোটালাইজার' নিয়ে কেন্দ্রের মত চাইল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটের পর হিংসা রুখতে গণনাতেও বদল? 'টোটালাইজার' নিয়ে কেন্দ্রের মত চাইল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটের ফল প্রকাশের পর কোন বুথে কে কত ভোট পেলেন, সেই তথ্যই কি কখনও হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই দেশের ভোট গণনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট। বুথ ধরে ইভিএমের ভোট গণনার বদলে একাধিক বুথের ভোট একসঙ্গে গণনার জন্য 'টোটালাইজার' ব্যবহারের প্রস্তাব নিয়ে এবার কেন্দ্রের মতামত চাইল শীর্ষ আদালত।

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকেও মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিটি বুথের ইভিএম আলাদাভাবে গণনা করা হয়। ফলে কোন বুথে কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন, তা ফলাফলের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায়। মামলাকারীর যুক্তি, এই তথ্য থেকেই কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ভোটারদের রাজনৈতিক পছন্দ সম্পর্কে ধারণা তৈরি হতে পারে। ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই তথ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিহিংসা বা বাছবিচারের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি মামলায় আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় 'টোটালাইজার' ব্যবহারের দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, বুথভিত্তিক ফল প্রকাশের পরিবর্তে একাধিক বুথের ভোট একত্রে গণনা করা হলে নির্দিষ্ট কোনও এলাকার ভোটারদের পছন্দ আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হবে।

এই ব্যবস্থায় একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১৪টি বুথের ভোট গণনা করা সম্ভব বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কোনও একটি বুথে কোন প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, সেই নির্দিষ্ট হিসাব সরাসরি জানা যাবে না। একই সঙ্গে গণনার প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

মামলাকারীর আরও যুক্তি, ভোটের ফলের ভিত্তিতে কোনও এলাকার ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হলে ভোট পরবর্তী সময়ে তাঁদের উপর চাপ বা আক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে। এমনকি উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রেও কোনও কোনও এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকে। টোটালাইজার ব্যবহারে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই প্রস্তাব নতুন নয় এবং এর বিরোধিতা করে এসেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, একাধিক বুথের ভোট একসঙ্গে গণনা করে ফল প্রকাশের ব্যবস্থা চালু করতে হলে বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধিতে পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।

বিশেষ করে ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬১ সালের নির্বাচন পরিচালনা বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আর এই ধরনের আইন সংশোধনের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ফলে শুধু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে টোটালাইজার ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

এর আগেও এই প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা হয়েছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি এবং মন্ত্রীদের একটি গোষ্ঠী টোটালাইজার ব্যবহারের প্রস্তাব খতিয়ে দেখে তা গ্রহণ করেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসায় নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

এখন শীর্ষ আদালতের প্রস্তাবের পর কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন কী অবস্থান নেয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। টোটালাইজার চালু হলে ভোট গণনার পদ্ধতিতে যেমন বড় পরিবর্তন আসবে, তেমনই বুথভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের বর্তমান ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তনের বিষয়টিও বড় ভূমিকা নেবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi