নজরবন্দি ব্যুরো: নিট (NEET) আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং 'ককরোচ জনতা পার্টি' (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Deepke) বিদেশে পড়াশোনার খরচ নিয়ে ওঠা বিতর্কে এবার প্রকাশ্যে এল তাঁর জবাব। তথ্যের অধিকার আইনের (RTI) আবেদনের পর নিজের আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে দীপকে দাবি করেছেন, বাবার আয়ে নয়, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Boston University) স্কলারশিপ এবং শিক্ষা ঋণের সাহায্যেই তিনি আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।
শুধু দাবি নয়, সেই সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।
নিট কেলেঙ্কারি ইস্যুতে আন্দোলনের পর থেকেই অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সংগঠনকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। বিদেশি অনুদান, রাজনৈতিক মদত এবং সংগঠনের আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় বিভিন্ন মহলে। এরই মধ্যে সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি তথ্যের অধিকার আইনে আবেদন করে জানতে চান, একজন সরকারি কর্মীর ছেলে কীভাবে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করলেন।
জানা গিয়েছে, অভিজিৎ দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (Maharashtra Industrial Development Corporation) একজন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তাঁর মাসিক বেতন ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। সেই প্রেক্ষিতেই পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য এবং বিদেশে পড়াশোনার অর্থের উৎস নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে।
এই অভিযোগের জবাবে অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর উচ্চশিক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা ঋণও নিয়েছিলেন, যা এখন পরিশোধের সময় এসেছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া স্কলারশিপের নথিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিদেশি অনুদানের অভিযোগও একেবারে খারিজ করেছেন দীপকে। তাঁর দাবি, আন্দোলনের সময় কোনও বিদেশি সংস্থার আর্থিক সাহায্য তাঁরা পাননি। বরং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে খাবার, পানীয় এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) কয়েকজন সদস্যও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আন্দোলনকারীদের সাহায্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, নিট আন্দোলনের সময় সংগঠনের কর্মীদের আইনি সহায়তার জন্য একটি তহবিল গঠনের কথা ঘোষণা করেছিল সিজেপি। সেই সময় প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal) এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন বলে আলোচনায় আসে। এরপর থেকেই সংগঠনের অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
অভিজিৎ দীপকের সাম্প্রতিক এই ব্যাখ্যা এবং প্রকাশ করা নথি নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে তাঁর দাবি, মেধা, স্কলারশিপ এবং শিক্ষা ঋণ-এই তিনের ভিত্তিতেই তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। আর্থিক লেনদেন এবং অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই রয়েছে।

