বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। একের পর এক পুরসভা হাতছাড়া হওয়ার পর এবার বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার চন্দননগর পুরনিগমের মেয়র-সহ ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় ৩৩ ওয়ার্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হারাল শাসকদল।
বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগরে পরাজয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
এই কেন্দ্রে হেরে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সেই ফল প্রকাশের কয়েকদিনের মধ্যেই পুরনিগমে শুরু হল বড়সড় ভাঙন।
চন্দননগর কর্পোরেশনের মোট ৩৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ছিল ৩১টি আসন। বাকি দু'টি আসন ছিল সিপিএমের। শুক্রবার সকালে প্রথমে পাঁচ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেন। এরপর রাতের দিকে আরও ২৫ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ায় মোট পদত্যাগকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০।
জানা গিয়েছে, কাউন্সিলররা তাঁদের পদত্যাগপত্র পুরনিগমের চেয়ারপার্সনের কাছে জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী সেই পদত্যাগপত্র কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি ই-মেলের মাধ্যমেও কমিশনারের কাছে পদত্যাগের নথি পাঠানো হয়েছে।
পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে চন্দননগরের বিদায়ী মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ তাঁদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন এবং সেই রায় তাঁরা মেনে নিয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরেও পুর পরিষেবা সচল রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি তাঁর।
রাম চক্রবর্তীর অভিযোগ, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকে পুরসভার আর্থিক খরচের অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরনিগমের আর্থিক স্বাধীনতাও সীমিত হয়ে পড়ে। দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ চালানো নিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল বলে দাবি তাঁর।
বিদায়ী মেয়রের কথায়, এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই দীর্ঘ আলোচনার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক চাপ বা জোরজবরদস্তির কারণে নয়, বরং কাজ করার সুযোগ না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে রাম চক্রবর্তী বলেন, চন্দননগর একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুন্দর শহর। রাজনৈতিক পালাবদল গণতন্ত্রের অংশ, তবে শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবা বজায় রাখতে সব পক্ষকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, জয়-পরাজয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও মানুষের স্বার্থই হওয়া উচিত সর্বাগ্রে।

