Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
'দিদি বড় ভুল করেছিলেন', দুর্নীতি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় তুললেন বাবুল

'দিদি বড় ভুল করেছিলেন', দুর্নীতি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় তুললেন বাবুল

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করলেন রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। দুর্নীতি এবং দলত্যাগ প্রসঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে করা এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

যদিও একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই মন্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, দলের সরকারি অবস্থান নয়।

বুধবার গভীর রাতে করা পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় প্রথমে দলত্যাগের রাজনীতি নিয়ে সরব হন। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচনে জিতে আসার পর সেই দল ছেড়ে গেলে সাংসদ বা বিধায়ক পদও ছেড়ে দেওয়া উচিত। নিজের রাজনৈতিক জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বিজেপি ছাড়ার সময় তিনিও সাংসদ পদ ত্যাগ করেছিলেন।

এরপরই দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বাবুল লেখেন, ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই যাঁরা দুর্নীতি, জনসাধারণের অর্থ তছরুপ এবং বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর মতে, সেই পদক্ষেপ যথাসময়ে না নেওয়ার ফলেই পরবর্তীকালে পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে বিতর্কে জড়ানো একাধিক ব্যক্তি বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। ফলে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ঘিরে তাঁর মন্তব্য। বাবুল লিখেছেন, এমন একজন ব্যক্তিকে দেখে তিনি সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হয়েছেন, যাঁকে তিনি কখনও এভাবে কল্পনা করেননি। যদিও সেই ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।

শুধু তৃণমূল নয়, বিজেপিকেও বার্তা দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অন্য দল থেকে নেতাদের দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে পোস্টের শেষে বাবুল স্পষ্ট করেছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে এবং এই বক্তব্যকে দলের অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন বলেই উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের একজন বর্তমান সাংসদের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্নীতি ইস্যুতে দলের অতীত ভূমিকা নিয়ে এমন মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে বা বিরোধী শিবিরে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, সেদিকেই নজর থাকবে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi