Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ডুরান্ড ফাইনালে বাড়তি জৌলুস, যুবভারতীতে একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ডুরান্ড ফাইনালে বাড়তি জৌলুস, যুবভারতীতে একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী

লকাতা ডার্বি মানেই আবেগ, উত্তেজনা এবং ইতিহাস। তার উপর যদি সেটি হয় ডুরান্ড কাপ (Durand Cup) ফাইনাল, তাহলে সেই ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা অন্য মাত্রা পায়। রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) ও ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC)-র মহারণের আগে আরও একটি বড় খবর সামনে এসেছে।

ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh)।

ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভিভিআইপি উপস্থিতির কারণেও এবারের ডুরান্ড ফাইনাল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে বিকেল ৫টা নাগাদ যুবভারতীতে পৌঁছতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষণ পরে মাঠে আসার কথা কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীরও।

শুধু এই দুই শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, ম্যাচ দেখতে উপস্থিত থাকতে পারেন রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তারা। ফলে ফাইনাল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকছে নজিরবিহীন। শনিবার থেকেই যুবভারতী চত্বরে প্রস্তুতির ব্যস্ততা চোখে পড়েছে।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কলকাতা ডার্বিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আগ্রহ আরও বেড়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত এক ডার্বি ম্যাচেও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তবে ডুরান্ড ফাইনালে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একসঙ্গে উপস্থিতি ম্যাচের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছে ফুটবলমহল।

মাঠের লড়াইয়ের দিকে তাকালে কাগজে-কলমে মোহনবাগানকে কিছুটা এগিয়ে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদেশি ফুটবলারদের গভীরতা, শক্তিশালী বেঞ্চ এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড সবুজ-মেরুন শিবিরকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। কোচ জোসে মোলিনার পরিবর্তে দায়িত্ব সামলানো কোচিং টিমও দলকে ছন্দে রেখেছে।

তবে ইস্টবেঙ্গলকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। লাল-হলুদের ডাগআউটে রয়েছেন আন্তোনিও হাবাস (Antonio Habas), যাঁকে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে ধরা হয়। রক্ষণাত্মক কৌশল এবং বড় ম্যাচে দলকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম বড় শক্তি।

সেমিফাইনালে কিছু ভুল থাকলেও ফাইনালে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই আশাবাদী লাল-হলুদ সমর্থকরা। সন্দীপ মান্ডি, জয় গুপ্তদের মতো ফুটবলারদের উপরও বিশেষ নজর থাকবে। অন্যদিকে আক্রমণে কাকে ভরসা করবেন হাবাস, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

মোহনবাগানের বিদেশি তারকাদের মধ্যে জেমি ম্যাকলারেন, মিগুয়েল এবং আলবার্তোর মতো ফুটবলাররা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সেমিফাইনালে সীমিত সময় খেললেও তাঁদের ম্যাচ-ফিট রাখার কৌশল নিয়েছিলেন কোচ। ফলে ফাইনালে তাঁরা বড় ভূমিকা নিতে পারেন।

ইস্টবেঙ্গলের বিদেশি নির্ভরতা তুলনামূলক কম। রশিদ ছাড়া অন্য বিদেশিরা এখনও সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি। রামিরেজ কিংবা ইকোনোমিডিস এখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। সেই কারণে ভারতীয় ফুটবলারদের উপরই অনেকটা নির্ভর করতে হতে পারে হাবাসকে।

তবে ফাইনালের আগে মোহনবাগানেরও একটি বড় উদ্বেগ রয়েছে। মাত্র ছয় দিনের মধ্যে তিনটি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে সবুজ-মেরুনকে। তার মধ্যে একটি ম্যাচ পাহাড়ি পরিবেশে খেলতে হয়েছে। ফলে ক্লান্তি ফ্যাক্টর ফাইনালের শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

সব মিলিয়ে ডুরান্ড কাপ ফাইনাল এবার শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং কলকাতার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসবে পরিণত হয়েছে। একদিকে ঐতিহ্যের ডার্বি, অন্যদিকে ভিভিআইপি উপস্থিতি-সবকিছু মিলিয়ে রবিবারের যুবভারতী যে ফুটবল উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi