ভারতীয় ক্রিকেট দলে কোচ পরিবর্তনের জল্পনা তৈরি হলেও বাস্তবে গৌতম গম্ভীরের দায়িত্বে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং টিম ইন্ডিয়ার অত্যন্ত ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণেই বিকল্প পরিকল্পনা করছে বিসিসিআই। সেই কারণেই এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে দেখা যেতে পারে ভিভিএস লক্ষ্মণকে।
আইপিএল শেষ হওয়ার পরই একাধিক আন্তর্জাতিক সিরিজে ব্যস্ত হয়ে পড়বে ভারতীয় দল।
দেশের মাটিতে ও বিদেশে বিভিন্ন ফরম্যাটে একাধিক সিরিজ রয়েছে সূচিতে। একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসও। ফলে দুটি আলাদা ভারতীয় দল মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিসিসিআই।
সূত্রের খবর, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ এবং পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে সিনিয়র দলের সঙ্গেই থাকবেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরে।
অন্যদিকে এশিয়ান গেমসের জন্য আলাদা একটি দল গঠন করা হবে। সেই দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ভিভিএস লক্ষ্মণকে। বর্তমানে তিনি জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, গত এশিয়ান গেমসেও মূলত তরুণ ও রিজার্ভ ক্রিকেটারদের নিয়েই দল গঠন করেছিল ভারত। সেই দলই সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিল। ফলে এবারও একই মডেল অনুসরণ করতে চাইছে বোর্ড।
বিসিসিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ক্রিকেটারের একটি বৃহৎ পুল তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে অনেক তরুণ ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
এশিয়ান গেমসের সম্ভাব্য দল নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীর নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে জোর জল্পনা চলছে। পাশাপাশি আইপিএলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন উদীয়মান ক্রিকেটারকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য তালিকায় যশ ঠাকুর, বিপ্রাজ নিগম, অনুকূল রায় এবং হর্ষ দুবের মতো ক্রিকেটারদের নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁদের পারফরম্যান্সের উপর নজর রাখছে নির্বাচক কমিটি।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য তালিকায় সূর্যকুমার যাদবের নাম না থাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে তাঁকে জাতীয় দলের পরিকল্পনা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো বড় আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্টে তাঁকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের লক্ষ্য একটাই- একই সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী দল নামানো এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই এশিয়ান গেমসে লক্ষ্মণের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

