জঙ্গি যোগের অভিযোগে ধৃত হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (Special Task Force, STF) সোমবার হাওড়া থেকে আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai) -কে ঘিরে বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য হামিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা থাকতে পারে।
এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে এসটিএফ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকার বাসিন্দা আদিত্যকে রবিবার গভীর রাতে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার সকালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে হেফাজতের আবেদন জানাবেন।
তদন্তকারীদের দাবি, কয়েক দিন আগে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে বিদেশি নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে মন্ত্রীকে খুন এবং তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্যও জানানো হয়েছিল, যা তদন্তকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই হুমকি ফোনের তদন্তভার এসটিএফের হাতে যাওয়ার পরই তদন্তের সূত্র ধরে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একের পর এক তথ্য উঠে আসতে শুরু করে। তদন্তকারীদের অনুমান, হামিমের সঙ্গে যুক্ত একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল এবং সেই নেটওয়ার্কের সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে এই মামলায় ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (Inter-Services Intelligence, ISI)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পশ্চিমবঙ্গে নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। যদিও এই অভিযোগের বিচারিক প্রমাণ এখনও আদালতে পরীক্ষা করা বাকি।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিম কিছু সময় নিউটাউন এলাকায় অবস্থান করেছিলেন এবং ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। অর্পিতাকে ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সরকারি মহলের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সোমবার গ্রেফতার হওয়া আদিত্য সিংহের ভূমিকা এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। হামিমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কতটা গভীর ছিল, তিনি আদৌ কোনও গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন কি না এবং মন্ত্রী উমেশ রাইকে ঘিরে হুমকির ঘটনায় তাঁর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এসটিএফ। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

