Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
খরার শঙ্কা বাড়াচ্ছে বর্ষার ঘাটতি! ৬০% বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা, চিন্তায় কৃষিক্ষেত্র

খরার শঙ্কা বাড়াচ্ছে বর্ষার ঘাটতি! ৬০% বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা, চিন্তায় কৃষিক্ষেত্র

দেশের অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রের সামনে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে বর্ষার অনিশ্চয়তা। চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কার কথা উঠে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক ও কৃষি মহলে। আবহাওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ইঙ্গিত মিলেছে, বর্ষা দুর্বল হলে দেশের জলসম্পদ, কৃষি উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগে যেখানে তুলনামূলক ভালো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল, সেখানে নতুন গাণিতিক মডেল বর্ষার চিত্রকে অনেকটাই দুর্বল দেখাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে 'এল নিনো' প্রভাব।

জলবায়ুবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল নিনোর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাব বিশ্বজুড়েই আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দে পড়ে। ভারতে এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং বৃষ্টিপাত কম হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

শুধু বৃষ্টির ঘাটতিই নয়, জুন মাসে দেশের একাধিক রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার, ওডিশা, ছত্তিসগড়, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, তামিলনাড়ু-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন মাসে এল নিনোর প্রভাব তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকলেও বর্ষার শেষভাগে এর তীব্রতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে বর্ষাকালের সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে মৌসুমি বায়ুর আগমন নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সাধারণত কেরলে বর্ষা প্রবেশের পর ধীরে ধীরে তা দেশের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এবার বর্ষার প্রবেশ কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের বীজ বোনা ও চাষের সময়সূচিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের বৃহৎ অংশের কৃষিকাজ এখনও বর্ষার জলের উপর নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টিপাত কম হলে জলাধার, নদী, বাঁধ এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চল, যেগুলিকে 'মনসুন কোর জোন' হিসেবে ধরা হয়।

বর্ষার প্রকৃত চিত্র আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে। তবে সম্ভাব্য ঘাটতির ইঙ্গিত সামনে আসতেই কৃষি, জলসম্পদ ও অর্থনীতি- তিন ক্ষেত্রেই সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi