Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক ঘিরে আমেরিকার হুঁশিয়ারি, ইরানকে সাহায্য করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে দেশ

মোদী-পেজেশকিয়ান বৈঠক ঘিরে আমেরিকার হুঁশিয়ারি, ইরানকে সাহায্য করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে দেশ

রানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের (Masoud Pezeshkian) সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) বৈঠক ঘিরে এবার মুখ খুলল আমেরিকা। দিল্লি ও তেহরানের মধ্যে কোনও বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করছে না ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনও দেশ যদি ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করে, তা হলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে।

সম্প্রতি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ানও। সম্মেলনের ফাঁকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদী।

মোদী-পেজ়েশকিয়ান বৈঠক নিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতিতে বাণিজ্য সংক্রান্ত কোনও আলোচনার উল্লেখ করা হয়নি। ইরানের প্রেসিডেন্টের তরফেও এমন কোনও দাবি করা হয়নি। তবু ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতিতেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ফক্স নিউজ রেডিয়ো'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওকে। ভারত ও ইরানের মধ্যে কোনও বাণিজ্যচুক্তি হচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হলে রুবিও জানান, তাঁর তা মনে হয় না।

রুবিও বলেন, প্রতিটি দেশই নিজেদের বিদেশনীতি তৈরি করে। বিশ্বের বহু দেশ ইরান সরকারের সঙ্গে বৈঠক করে। এমনকি আমেরিকাও ইরান সরকারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে বৈঠক করাকেই ওয়াশিংটন আপত্তিকর হিসেবে দেখছে না।

তবে ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনও দেশ যেন তেহরানকে সাহায্য না করে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশেরই এমন কোনও ব্যবস্থা তৈরিতে ইরানকে সহযোগিতা করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তেহরান আয় করতে পারে এবং সেই অর্থ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে।

মার্কিন বিদেশসচিবের দাবি, ইরান বাণিজ্য থেকে পাওয়া অর্থ পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদে মদতের কাজে ব্যবহার করতে পারে। এই আশঙ্কার কথা সামনে রেখেই তেহরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে আমেরিকা।

রুবিও আরও কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, কোনও দেশ যদি ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার মতো কোনও পদক্ষেপ নেয়, তা হলে সেই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে আমেরিকা। ফলে ভারতের মতো ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক থাকা দেশগুলির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাবাহার বন্দর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভারত গত কয়েক বছর ধরে চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে এসেছে।

তবে চলতি বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থবরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি। এর মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসন চারটি ভারতীয় সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইরানের উপর চাপ বাড়াতে 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' নামে নতুন করে অর্থনৈতিক অভিযানও শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করে ইরানের আয় কমানোই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

ফলে মোদী ও পেজ়েশকিয়ানের বৈঠককে ঘিরে আপাতত কোনও বাণিজ্যচুক্তির ইঙ্গিত না থাকলেও, ইরানের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দিনে দিল্লি-তেহরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই নজরে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi