Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মুম্বাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিমি বৃষ্টি, জারি কমলা সতর্কতা; ফের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

মুম্বাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিমি বৃষ্টি, জারি কমলা সতর্কতা; ফের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

মুম্বাই (Mumbai) আবার ভিজল প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের পূর্ব ও পশ্চিম উপকণ্ঠে মূল শহরাঞ্চলের চেয়ে অনেকটাই বেশি বৃষ্টি ঝরেছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (India Meteorological Department) তথ্য বলছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে পশ্চিম উপকণ্ঠে ৭৮ মিলিমিটার, পূর্ব উপকণ্ঠে ৭৭ মিলিমিটার এবং দ্বীপশহর এলাকায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আইএমডি ইতিমধ্যেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর মুম্বাই ও থানে (Thane) জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বইতে পারে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতির ঝোড়ো হাওয়া। পরিস্থিতি আরও গুরুতর পালঘর (Palghar) ও রায়গড়ে (Raigad)। এই দুই জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আইএমডি। সেখানে কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী এবং বিচ্ছিন্ন জায়গায় চরম ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, মুম্বাই ও শহরতলিতে সারাদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি চলবে। তীব্র বর্ষণের জেরে নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ছন্দপতনের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।

উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের জন্য আলাদা করে জোয়ারের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জোয়ারের চাপে নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হলে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ হতে পারে। সোমবার বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে জোয়ারের উচ্চতা ছিল ৩.৯৩ মিটার। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪৩ মিনিটে উচ্চতা থাকবে ৩.৪১ মিটার। ভাটার ক্ষেত্রে সোমবার রাত ১১টা ২ মিনিটে উচ্চতা ছিল ১.৪৩ মিটার, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৭ মিনিটে থাকবে ২.১৪ মিটার।

কোঙ্কণ (Konkan) উপকূলজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাব জোরালো থাকায় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও জরুরি পরিষেবাগুলো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। মুম্বাই ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলেই ইঙ্গিত আবহাওয়াবিদদের।

বৃষ্টির আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে শহরের জলভাণ্ডারে। টানা বর্ষণের জেরে গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ের সাতটি জলাধারের জলস্তর একলাফে ১২ শতাংশ বেড়ে মোট মজুত পৌঁছেছে ২৮.৯২ শতাংশে। হাইড্রোলিক ইঞ্জিনিয়ার্স ডিপার্টমেন্ট (Hydraulic Engineer’s Department) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাতটি জলাধারে মোট জলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪,১৮,৬৪৯ মিলিয়ন লিটার। এই সাত জলাধারের সর্বমোট ধারণক্ষমতা ১৪,৪৭,৩৬৩ মিলিয়ন লিটার। ৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই সকাল ৬টার মধ্যে ক্যাচমেন্ট এলাকায় যে তুমুল বৃষ্টি হয়েছে, তার ফলেই জলস্তরের এই ঊর্ধ্বগতি।

জলাধারগুলোর মধ্যে বিহার (Vihar) হ্রদ কার্যত কানায় কানায়-ধারণক্ষমতার ৯৮.৯৮ শতাংশ। তুলসী (Tulsi) হ্রদ পূর্ণ রয়েছে ৯৫.৮৮ শতাংশ। মোদক সাগর (Modak Sagar) ৫২.২২ শতাংশ, তানসা (Tansa) ৪২.৮৫ শতাংশ, মধ্য বৈতরণা (Middle Vaitarna) ২৬.১২ শতাংশ, ভাতসা (Bhatsa) ২৪.৫০ শতাংশ এবং উচ্চ বৈতরণা (Upper Vaitarna) ১২.২৫ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে।

ক্যাচমেন্ট এলাকাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে রেকর্ড মাত্রায়। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গেছে মোদক সাগরে-৩৪৫ মিলিমিটার। তানসায় ৩২২ মিলিমিটার, মধ্য বৈতরণায় ২৩৫ মিলিমিটার, উচ্চ বৈতরণায় ২১২ মিলিমিটার, ভাতসায় ১৭২ মিলিমিটার, তুলসীতে ১৬০ মিলিমিটার এবং বিহারে ১৫১ মিলিমিটার। ভান্ডুপ কমপ্লেক্সে (Bhandup Complex) একই সময়ে বৃষ্টি হয়েছে ১৪০ মিলিমিটার, যা চলতি মরশুমের মোট বৃষ্টিপাতকে নিয়ে গেছে ১,৬০২ মিলিমিটারে।

জলাধারগুলোর জলস্তর ক্রমশ উন্নতির দিকে থাকায় জলছাড়ার কাজও স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৩ জুন খোলা মধ্য বৈতরণার ডব্লিউএসসিপিও গেটটি ৬ জুলাই দুপুর ২টোয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। একইভাবে, গত ২২ জুন শুরু হওয়া উচ্চ বৈতরণার জলছাড়াও ৬ জুলাই সকাল ১০টায় বন্ধ করা হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, মুম্বাই ও সংলগ্ন ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিনে জলাধারগুলির জলস্তর আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ও তার ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিনে জলাধারগুলোর জলস্তর আরও বাড়তে পারে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi