Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
NEET প্রশ্নফাঁস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা! 'UPSC থেকে শিক্ষা নিক NTA', তোপ কেন্দ্রকেও

NEET প্রশ্নফাঁস নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা! 'UPSC থেকে শিক্ষা নিক NTA', তোপ কেন্দ্রকেও

NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ফের চাপে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবং কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একইসঙ্গে UPSC-র উদাহরণ টেনে NTA-র কাঠামো ও কার্যপ্রণালী নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত।

NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানিতে বিচারপতি পি এস নরসিমা ও বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ কঠোর মন্তব্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শুনানিতে আদালত জানায়, NEET শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা নয়, এটি দেশের মেডিক্যাল শিক্ষায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান যোগ্যতা নির্ধারণকারী পরীক্ষা। ফলে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

NTA-র কাজের ধরন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে আদালত বলে, "UPSC-র পরীক্ষায় কখনও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা শোনা যায় না। NTA-র উচিত সেই মডেল থেকে শিক্ষা নেওয়া।" আদালতের মতে, পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি।

ডিভিশন বেঞ্চ NTA-র বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকেও 'অ্যাড-হক' বা অস্থায়ী প্রকৃতির বলে উল্লেখ করে। বিচারপতিদের বক্তব্য, কোনও প্রতিষ্ঠান যদি ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়ে, তাহলে ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহি দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, কীভাবে NTA-কে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে, তা বিস্তারিত হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে। সেখানে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো, দক্ষ কর্মী নিয়োগ এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখাও উল্লেখ করতে হবে।

শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন NEET বিতর্কের পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং কমিটির প্রধান ড. কে রাধাকৃষ্ণণ। আদালত তাঁর কাছে জানতে চায়, আগের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা কেন রোখা গেল না।

এর উত্তরে রাধাকৃষ্ণণ জানান, কমিটি ৩৫টি দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রায় ৬০টি স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের সুপারিশ করেছিল। তাঁর দাবি, অধিকাংশ সুপারিশ ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। তবে নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সামনে আসায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ থেকে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। IIT-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকেও নিরাপত্তা পর্যালোচনার কাজে যুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের তরফে আরও জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে এই পরীক্ষা জড়িত হওয়ায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, NEET প্রশ্নফাঁস নিয়ে শুধু দায় নির্ধারণ নয়, পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারও এখন সময়ের দাবি। আগামী দিনে কেন্দ্র ও NTA কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi