সঞ্জু স্যামসনকে হঠাৎ প্রথম একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে সরগরম ভারতীয় ক্রিকেট। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পারফরমার হওয়া সত্ত্বেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের মাঝপথে তাঁকে বসিয়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বৈভব সূর্যবংশীকে সুযোগ দেওয়ার জন্যই কি এই সিদ্ধান্ত, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে?
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারের পর এই বিতর্কে মুখ খুললেন ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে সঞ্জুর ব্যাটে এসেছিল ৯৭*, ৮৯ এবং ৮৯ রানের দুরন্ত ইনিংস। সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড সিরিজে তাঁর ব্যাট একেবারেই কথা বলেনি। টানা তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ৫, ০ এবং ১ রান। এরপরই তাঁকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সঞ্জুকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাঁর কথায়, “সঞ্জুকে যা বলার ছিল, আমি ব্যক্তিগতভাবে বলে দিয়েছি। সেই আলোচনা কোচ ও ক্রিকেটারের মধ্যেই থাকবে। বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে ওর অবদান অসাধারণ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও কখনও বর্তমান ফর্মও বিবেচনা করতে হয়।”
তবে সঞ্জুর জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতীয় কোচ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ক্রিকেটারের জন্য স্থায়ীভাবে দলে থাকা নিশ্চিত নয়, আবার বাদ পড়াও চূড়ান্ত নয়। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলিতে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঞ্জু আবারও দলে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গম্ভীর বলেন, “কোনও নির্দিষ্ট নিয়মে দল নির্বাচন হয় না। যে কম্বিনেশন দলকে সাফল্য এনে দিতে পারে, সেটাই মাঠে নামবে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, ভারতের হয়ে খেলার জায়গা প্রত্যেক ক্রিকেটারকে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে অর্জন করতে হয়।”
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে গম্ভীরের নিজের কৌশল নিয়েও। গত কয়েকটি ম্যাচে ভারত প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। সাংবাদিক বৈঠকে সেই প্রসঙ্গ উঠতেই সমালোচনার জবাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। গম্ভীরের বক্তব্য, কয়েকটি খারাপ ম্যাচ কোনও দলকে খারাপ প্রমাণ করে না। তাঁর বিশ্বাস, এই দল দ্রুতই ছন্দে ফিরবে।
ইংল্যান্ড সিরিজে সঞ্জু স্যামসনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। তবে গম্ভীরের মন্তব্যে স্পষ্ট, দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পরবর্তী ম্যাচগুলিতে পারফরম্যান্সের প্রয়োজন এবং দলের ভারসাম্য-এই দুইয়ের উপরই নির্ভর করবে সঞ্জুর প্রত্যাবর্তন।

