উত্তরপ্রদেশের বেরেলিতে শিক্ষকদের দিয়ে খড় সংগ্রহের নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। পথভ্রষ্ট গবাদি পশুর আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য খড় জোগাড় করতে ব্লক শিক্ষা আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই নির্দেশের জেরে শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, আর সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুতে। বেরেলির বেসিক শিক্ষা আধিকারিক (BSA) বিনীতা সিং জেলার ১৫ জন ব্লক শিক্ষা আধিকারিককে (BEO) মোট ১,৫০০ কুইন্টাল খড় সংগ্রহের নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যেক আধিকারিককে নিজেদের ব্লক থেকে অন্তত ১০০ কুইন্টাল খড় জোগাড় করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল।
বিতর্ক চরমে ওঠে যখন ২২ মে নবাবগঞ্জের ব্লক শিক্ষা আধিকারিক সত্যদেবের জারি করা একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসে। ওই চিঠিতে স্কুলশিক্ষকদের সাত দিনের মধ্যে খড় সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি নির্দেশ না মানলে বিভাগীয় তদন্তের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
শিক্ষকদের দিয়ে খড় সংগ্রহের নির্দেশ উত্তরপ্রদেশে! গবাদি পশু ইস্যুতে বিতর্কে যোগী সরকারনির্দেশ অনুযায়ী, নবাবগঞ্জ ব্লকের অধীনে থাকা প্রতিটি স্কুলকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৪৬ কেজি করে খড় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক অথবা পশু চিকিৎসা দফতরের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছিল।
এই নির্দেশ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষাদানের পরিবর্তে বারবার অশিক্ষাগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিক্ষক সমাজকে।
এক সরকারি স্কুলশিক্ষক ভানু প্রতাপ সিং প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের কাজ কি শিশুদের শিক্ষা দেওয়া, নাকি খড় সংগ্রহ করা? আজ খড়, কাল হয়তো গোবর সংগ্রহ বা অন্য কাজ করতে বলা হবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।"
আরও এক শিক্ষিকা রীতা বাত্রার বক্তব্য, শিক্ষকরা ইতিমধ্যেই শ্রেণিকক্ষের দায়িত্বের পাশাপাশি জনগণনা সংক্রান্ত কাজও সামলাচ্ছেন। এই ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁদের মূল কাজকে ব্যাহত করছে এবং শিক্ষার পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষক রমেশ মৌর্যও একই সুরে বলেন, পেশার মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ তাঁরা করতে প্রস্তুত, কিন্তু এই ধরনের নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়।
বিতর্ক বাড়তেই যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিজেদের দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। বেরেলির জেলা শাসক অবিনাশ সিং দাবি করেন, এমন কোনও নির্দেশ সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনও তথ্য ছিল না।
প্রথমদিকে ব্লক শিক্ষা আধিকারিক সত্যদেব নির্দেশের পক্ষে সাফাই দিলেও পরে জনরোষ বাড়তে দেখে আরেকটি চিঠি জারি করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন, খড় সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক নয়, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ হিসেবেই বিষয়টি দেখা উচিত।
অন্যদিকে, বেসিক শিক্ষা আধিকারিক বিনীতা সিংও পরে দাবি করেন, এটি কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না। তাঁর কথায়, পথভ্রষ্ট গবাদি পশুর জন্য কেউ খড় দান করতে চাইলে স্থানীয় শিক্ষকরা শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সাহায্য করতে পারেন-এমন ভাবনা থেকেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রশাসনের এই ব্যাখ্যা বিতর্ক পুরোপুরি থামাতে পারেনি। শিক্ষকদের একাংশের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে তার প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের উপরই। ফলে বেরেলির এই ঘটনা এখন শিক্ষা প্রশাসন এবং শিক্ষক সমাজের সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

