Dailyhunt
শ্রমিকের রক্তে লেখা ইতিহাস-ভারতে মে দিবসের শিকড় কোথায়?

শ্রমিকের রক্তে লেখা ইতিহাস-ভারতে মে দিবসের শিকড় কোথায়?

ভারতে মে দিবস শুধুমাত্র একটি প্রতীকী দিন নয়-এটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্মারক। ১ মে এলে শুধু ছুটির দিন নয়, উঠে আসে সেই ইতিহাস, যেখানে শ্রমিকদের ঘাম, সংগ্রাম আর প্রতিবাদ মিলিয়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক শ্রমনীতি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু হয়ে ভারতীয় মাটিতে এই দিবসের বিকাশ-সব মিলিয়ে মে দিবস আজও প্রাসঙ্গিক, আরও বেশি করে।

মে দিবসের সূত্রপাত যদিও উনিশ শতকের শেষভাগে আমেরিকায়, কিন্তু তার প্রভাব দ্রুত পৌঁছে যায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী ঘটনা আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর থেকেই ১ মে দিনটি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।

ভারতে এই দিবস প্রথম পালিত হয় ১৯২৩ সালে, মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) শহরে। শ্রমিক নেতা সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত সেই কর্মসূচি ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সেদিন প্রথমবার ভারতের মাটিতে লাল পতাকা উত্তোলন করা হয়-যা শ্রমিক ঐক্য ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

ব্রিটিশ শাসনের সময় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কম মজুরি এবং নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জমতে শুরু করে। মে দিবসের চেতনা সেই ক্ষোভকে সংগঠিত আন্দোলনের রূপ দেয়। ধীরে ধীরে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে ওঠে এবং শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে একজোট হতে শুরু করেন।

স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় শ্রমিক সংগঠনগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। ফলে মে দিবস শুধু শ্রমিকদের নয়, বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়ের আন্দোলনেরও প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

স্বাধীনতার পর ভারত সরকার শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় একাধিক আইন প্রণয়ন করে। তবুও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে-চুক্তিভিত্তিক কাজ, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে চাপ বাড়া। তাই আজও মে দিবস শুধুই অতীতের স্মরণ নয়, বরং ভবিষ্যতের লড়াইয়ের প্রেরণা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi