Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
টাইগার শ্রফের হামলার দায়স্বীকার বিশ্নোই গ্যাংয়ের? পোস্ট মুছে রহস্য

টাইগার শ্রফের হামলার দায়স্বীকার বিশ্নোই গ্যাংয়ের? পোস্ট মুছে রহস্য

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনার পর লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের নামে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দায়স্বীকারের পোস্ট ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জুহুতে অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

পরে মূল পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডল আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে হামলার নেপথ্যে বিশ্নোই গ্যাং রয়েছে কি না, তা মুম্বই পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করেনি।

এই ঘটনার তদন্তে সোমবার সকালে রাজস্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আপনার দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায়স্বীকারের পোস্টের সত্যতা যাচাই করা এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

লরেন্স বিশ্নোই গ্যাংয়ের নামে সমাজমাধ্যমে দায়স্বীকারের দাবি ওঠার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ড এবং অভিনেতা সলমন খানের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনার পরেও একই ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনার পরেও বিশ্নোই গ্যাংয়ের নামে দায়স্বীকারের দাবি সামনে এসেছিল।

তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পোস্টের সত্যতা এবং অপরাধের সঙ্গে গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ যোগ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কোনও সমাজমাধ্যম পোস্টে দায় নেওয়া হয়েছে বলেই সেই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় না।

'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইগার শ্রফের উপর হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই 'অনিল পণ্ডিত অনমোল বিশ্নোই' নামে একটি সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে একটি অডিয়ো ক্লিপও সমাজমাধ্যমে ছড়ায়, যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে অনিল পণ্ডিত বলে পরিচয় দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু মূল পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডল আর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পোস্টটি কে করেছিলেন, কোন জায়গা থেকে সেটি আপলোড করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হামলাকারীদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর প্রতিবেদনে মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত মূল পোস্টের আইপি অ্যাড্রেসের সূত্র ধরে পোস্টদাতার পরিচয় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। কিন্তু পোস্ট প্রকাশের পর অ্যাকাউন্ট মুছে দিয়ে অন্য হ্যান্ডলের মাধ্যমে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া হলে তদন্ত জটিল হতে পারে।

ওই আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে মূল পোস্টের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে মূল ডিজিটাল পোস্টের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও প্রমাণ সংগ্রহের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তবে কোনও পোস্ট মুছে ফেলা হলেই তার ডিজিটাল চিহ্ন সম্পূর্ণ মুছে যায়, এমন নয়। তদন্তকারীরা অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য, প্ল্যাটফর্মের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের সূত্রও খতিয়ে দেখতে পারেন।

অপরাধের পর সমাজমাধ্যমে দায়স্বীকারের দাবি প্রকাশ্যে এলে তা জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে টাইগার শ্রফের ঘটনার ক্ষেত্রে পোস্টটির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রকাশ্যে দায় নেওয়ার দাবি তদন্তকারীদের কাছে সূত্র হতে পারে। একই সঙ্গে সেটি বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টাও হতে পারে। তাই পোস্টের ভাষা বা স্ক্রিনশটের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে না পৌঁছে প্রযুক্তিগত প্রমাণ ও তদন্তের ফলের উপর নির্ভর করাই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ঘটনায় অভিনেতা নিজে গুলিবিদ্ধ হননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁর গাড়িচালক গুলিবিদ্ধ হন এবং ভাঙা কাচ ও বারুদের গুঁড়োয় আহত হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

রাজস্থান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তারের খবর সামনে আসার পর তদন্তে তাঁদের ভূমিকা, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনায় বিশ্নোই গ্যাংয়ের নামে দায়স্বীকারের পোস্টের দাবি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিন্তু মূল পোস্টের অনুপস্থিতি এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতাকে এখনও প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi