Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
তেরো বছর আগের ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত তেহেলকার প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপাল, সাজা ঘোষণা আজই

তেরো বছর আগের ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত তেহেলকার প্রতিষ্ঠাতা তরুণ তেজপাল, সাজা ঘোষণা আজই

জরবন্দি ব্যুরো: ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত যৌন নির্যাতন মামলায় বড় আইনি মোড়। সাংবাদিক ও তেহেলকা (Tehelka)-র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সম্পাদক-ইন-চিফ তরুণ তেজপাল (Tarun Tejpal)-কে ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করল বম্বে হাই কোর্টের গোয়া বেঞ্চ (Bombay High Court at Goa)।

২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্টের খালাসের রায় বাতিল করে এই সিদ্ধান্ত জানায় আদালত। বৃহস্পতিবারই তাঁর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।

আদালতের রায় অনুযায়ী, তরুণ তেজপাল এমন ধারায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন যেখানে অভিযুক্ত যদি ভুক্তভোগীর প্রতি আস্থার বা কর্তৃত্বের অবস্থানে থাকেন, তবে ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রয়োজনে সেই সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের কাছে শাস্তি লঘু করার আবেদন জানান তরুণ তেজপাল। বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁর বয়স এখন ৬২ বছর, তিনি নিজেকে এই ঘটনার 'ভুক্তভোগী' বলেই মনে করেন। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের কথাও উল্লেখ করে আদালতের কাছে সহানুভূতির আবেদন জানান। তবে আদালত নির্ধারিত সময়ে সাজা ঘোষণা করবে বলে জানায়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৩ সালের নভেম্বরে। এক মহিলা সাংবাদিক অভিযোগ করেছিলেন, গোয়ার একটি হোটেলের লিফটে ৭ ও ৮ নভেম্বর তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন তরুণ তেজপাল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয় এবং দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়।

২০২১ সালে গোয়ার একটি সেশনস কোর্ট (Goa Sessions Court) তরুণ তেজপালকে বেকসুর খালাস দেয়। সেই রায়ে আদালত মন্তব্য করেছিল, অভিযোগকারিণীর আচরণ কোনও যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির 'স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া'-র সঙ্গে মেলে না। পাশাপাশি অভিযুক্তকে পাঠানো তাঁর কিছু বার্তার উল্লেখ করে আদালত বলেছিল, অভিযোগকারিণীকে আতঙ্কিত বা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে মনে হয়নি।

এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে গোয়া সরকার বম্বে হাই কোর্টে আবেদন জানায়। শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ট্রায়াল কোর্ট কার্যত ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিল এবং তাঁর আচরণ নিয়ে এমন কিছু মানদণ্ড তৈরি করেছিল, যা আইনসম্মত নয়। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল 'অস্বাভাবিক' এবং 'বিকৃত যুক্তিনির্ভর'।

গোয়া সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) আদালতে বলেন, জেরা চলাকালীন অভিযোগকারিণীকে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মদ্যপান, ধূমপান, সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক বা বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথোপকথন নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলি এই মামলার বিচারে প্রাসঙ্গিক ছিল না। তাঁর দাবি, ওই প্রশ্নগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে ট্রায়াল কোর্ট ভুল মূল্যায়ন করেছিল।

হাই কোর্টের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা মামলায় নতুন অধ্যায় শুরু হল। এখন নজর আদালতের সাজা ঘোষণার দিকে। পাশাপাশি, তরুণ তেজপালের আইনজীবীরা উচ্চতর আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi