Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
ত্রাণের ত্রিপল আর শাড়ি চুরি! নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে আটক করল পুলিশ

ত্রাণের ত্রিপল আর শাড়ি চুরি! নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে আটক করল পুলিশ

বদ্বীপে ত্রাণসামগ্রী মজুতকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে তাঁর বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে তাঁর আবাসনের পাশের একটি ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একাধিক ঘরে বিপুল পরিমাণ ত্রিপল, কম্বল এবং বিভিন্ন ধরনের শাড়ি মজুত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণসামগ্রী ক্লাবঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে ক্লাব থেকে সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, সেটি চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার আবাসনের একেবারে পাশেই অবস্থিত।

রাতভর ক্লাবে তল্লাশি চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের একাংশ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব হন এবং তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযোগের জেরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।

এরপর রাত প্রায় ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে পৌঁছন। নিরাপত্তার চাদরে গোটা এলাকা মুড়ে ফেলে বিমানকৃষ্ণ সাহাকে বাড়ি থেকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ জলের বোতল এবং জুতো ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করতে হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিমানকৃষ্ণ সাহা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর যোগ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

যদিও ক্লাবে এত বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী কেন মজুত ছিল এবং সেগুলির উৎস কী, তা নিয়ে প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে ঘটনাকে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Najarbandi