রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও আশার সুর শোনা গেল অভিনেতা ও সাংসদ দেবের গলায়। নতুন বিজেপি সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানালেন, অতীতের নানা অভিজ্ঞতার পর তাঁর বিশ্বাস, বর্তমান প্রশাসনের আমলে টলিউড আরও ইতিবাচক পরিবেশ পাবে। একই সঙ্গে আগের সরকারের সময়ে ব্যক্তিগতভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে 'ফেরা' ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন দেব। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নতুন সরকার এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন টলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
দেবের বক্তব্য, নতুন সরকারকে কাজের সুযোগ ও সময় দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রশাসন পরিবর্তনের পরপরই সব ফলাফল আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনও তৈরি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাই সরকারের কাজের মূল্যায়নের আগে অন্তত এক বছর সময় দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন অভিনেতা।
নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে দেব বলেন, তাঁর বিশ্বাস বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করছেন।
এই প্রসঙ্গেই অভিনেতার একটি মন্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেব জানান, আগের সরকারের আমলে তিনি যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, নতুন প্রশাসনের সময় সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই তাঁর আশা। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনও ঘটনার উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দেব দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করায় অতীতে তাঁকে নানা সমালোচনা এবং চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল বলেও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে বহুবার আলোচনা হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন দেব। দু’জনেই মেদিনীপুরের মানুষ হওয়ায় সেই প্রসঙ্গ উঠলে অভিনেতা বলেন, মেদিনীপুর বরাবরই এগিয়ে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এছাড়াও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি নতুন সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা প্রয়োজন।
নতুন সরকারের কাছে দেবের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন ছিল- চলচ্চিত্র শিল্পে যেন কোনও শিল্পী বা কলাকুশলীকে রাজনৈতিক কারণে বয়কট বা নিষিদ্ধ হতে না হয়। সবাই যাতে সমান সুযোগ নিয়ে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
২০১৪ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দেব নিজেকে বরাবরই তুলনামূলক সংযত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার না করা, সৌজন্যমূলক রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখা এবং শিল্প-সংস্কৃতির জগতে বহুমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন- এই ভাবমূর্তিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছে, তখন দেবের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এখন দেখার, নতুন সরকারের আমলে চলচ্চিত্র শিল্পের পরিবেশ নিয়ে তাঁর আশাবাদ কতটা বাস্তব রূপ পায়।

