
নতুন প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর।। আর দশদিন পর রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ওই মামলায় যে রায় দেবে সর্বোচ্চ আদালত সেটাই হবে চূড়ান্ত রায়। ওই রায় মেনে নিতে হবে সব পক্ষকেই। তাই ১৭ নভেম্বর অযোধ্যা মামলার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে। ওই দিন সরকার, বিরোধী দল, হিন্দু সংগঠন এবং মুসলিম বোর্ড সব পক্ষেরই চোখ থাকবে সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।
তবে রায় যার পক্ষেই যাক না কেন ১৭ নভেম্বর রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা চ্যালেঞ্জের হতে চলেছে যোগী সরকারের কাছে। এমন বিশেষ দিনে রাজ্য জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। কারণ, প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় না হলে ওই দিন কোনও এক পক্ষের তরফে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে।
যা থেকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা দেখা দিতে পারে, এমনটা ধরেই এখন থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে যোগী সরকার।
সেই কারণে রাজ্যের আম্বেদকর নগর জেলায় অস্থায়ী ভাবে আটটি জেল তৈরি করছে যোগী সরকার। জেলার জইতপুর, ভীতি, আল্লাপুর, জলালপুর, একবারপুর ইত্যাদি এলাকায় থাকা আটটি কলেজ ও স্কুল ওই দিন বন্ধ থাকবে। আর ওই কলেজ এবং স্কুলগুলোকে অস্থায়ী জেল বানানো হবে। ইতিমধ্যে অযোধ্যায় পুলিশ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। তবে রায়ের দিন যত এগিয়ে আসবে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হবে।
কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফেও রাজ্যেকে চিঠি লিখে অযোধ্যা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানান হয়েছে। কারণ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে গোয়েন্দা রিপোর্ট জমা পড়েছে। যেখানে রাজ্যে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্র ৪০ কোম্পানি সেনা এবং ১৬ কোম্পানি আধাসেনা, ৬ কোম্পানি করে আইটিবিপি, সিআইএসএফ, এসএসবি, ব়্যাফ উত্তরপ্রদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইতিমধ্যে ১৩ কোম্পানি আধাসেনা রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। রায় বেরনোর পর উত্তরপ্রদেশে অশান্তি পাকাতে মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজবও ছড়ানো হতে পারে মনে করছে যোগী সরকার। সেই ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের উপর নজর রাখবে রাজ্য সরকার।