নিউজ বাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক : ভাদ্র মাসের অমাবস্যা বললেই পুণ্যার্থীদের মনে ভেসে ওঠে বীরভূমের মহাশ্মশান তারাপীঠের কথা। আর এই ভাদ্র অমাবস্যাকেই শাস্ত্রানুসারে বলা হয় কৌশিকী অমাবস্যা। সারা বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও সাধক এই বিশেষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। বিশ্বাস করা হয়, এই পুণ্য তিথিতে ভক্তিভরে মা তারার কাছে প্রার্থনা করলে কোনো ভক্তই খালি হাতে ফেরেন না।
পঞ্জিকা ও দিনপঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে কৌশিকী অমাবস্যা পড়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। তিথিটি পরদিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
অমাবস্যা তিথি শুরু: ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা ১১ মিনিটে।
অমাবস্যা তিথি শেষ: ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে।
মা তারার বিশেষ পুজো, তর্পণ এবং তন্ত্র সাধনার জন্য ভক্তরা এই নির্দিষ্ট সময়সীমাটিই পাবেন।
দেবী পার্বতী থেকে 'কৌশিকী' নামান্তরের পৌরাণিক ইতিহাস
কেন এই বিশেষ দিনের দেবীকে 'কৌশিকী' বলা হয়, তার পেছনে রয়েছে এক অলৌকিক পৌরাণিক কাহিনী।
পুরাণ মতে, শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দুই অত্যাচারী অসুর বর পেয়েছিল যে, কোনো মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া নারী (অর্থাৎ যারা স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেননি বা 'অযোনিসম্ভূতা') ছাড়া কেউ তাদের বধ করতে পারবে না। অন্যদিকে, দেবী পার্বতীর গায়ের রঙ কিছুটা শ্যামলা বা কালো হওয়ায় মহাদেব তাঁকে ভালোবেসে 'কালিকা' বলে ডাকতেন। একদিন সবার সামনে এই নামে ডাকায় দেবী অভিমান করেন এবং মানস সরোবরের তীরে গিয়ে কঠোর তপস্যা শুরু করেন।
তপস্যা শেষে মানস সরোবরের জলে স্নান করতেই দেবী পার্বতীর শরীর থেকে সব কালো কোশ (Cell) ঝরে পড়ে এবং তিনি পূর্ণিমার চাঁদের মতো অপরূপা ও ফর্সা রূপ ধারণ করেন। আর দেবীর শরীর থেকে ঝরে পড়া সেই কালো 'কোশ' থেকেই জন্ম নেন এক নতুন দেবী। কোশ থেকে জন্ম হওয়ায় তাঁর নাম হয় 'কৌশিকী'। পরবর্তীতে এই ভাদ্র অমাবস্যা তিথিতেই দেবী কৌশিকী শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করে স্বর্গের দেবতাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করেছিলেন।
তারাপীঠ, 'তারা রাত্রি' ও সাধক বামাক্ষ্যাপা
তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যার এই বিশেষ রাতকে 'তারা রাত্রি' বলা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রাতে ভালো এবং মন্দ— দুই ধরনের অলৌকিক শক্তির দুয়ারই খুলে যায়।
বাংলার পরম সাধক বামাক্ষ্যাপা এই কৌশিকী অমাবস্যার দিনেই তারাপীঠের মহাশ্মশানে শ্বেতশিমুল বৃক্ষের তলায় সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন এবং মা তারার প্রত্যক্ষ দর্শন পেয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্যকে স্মরণ করে প্রতি বছর এই তিথিতে তারাপীঠে ভিড় জমান দেশের নানা প্রান্তের সাধু-সন্ন্যাসী ও সাধারণ পুণ্যার্থীরা। এই দিন মা তারাকে বিশেষ রাজবেশে সাজিয়ে মহাশোভাযাত্রা ও মহাসমারোহে পুজো করা হয়।
যাঁরা কৌশিকী অমাবস্যায় মা তারার পূজা বা দর্শনের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই যাত্রা ও থাকার ব্যবস্থা করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষের নির্দেশিকা মেনে চললে পুণ্যদর্শন আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

