নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক, কলকাতা: তীব্র দাবদাহ আর হাঁসফাঁস গরমের পর অবশেষে নামল স্বস্তির বৃষ্টি। কিন্তু সেই স্বস্তির বৃষ্টিই শেষমেশ রূপ নিল চরম বিপর্যয়ের। বৃহস্পতিবার বিকেলে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণ করে কলকাতা ও তার সংলগ্ন জেলাগুলিতে আছড়ে পড়ল মরশুমের সবচেয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়।
ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার! মাত্র আধ ঘণ্টার এই তাণ্ডবে কলকাতা শহরের একাধিক এলাকা কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। ঠাণ্ডা হয়ে গেছে পুরো এলাকা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত আকাশের মুখ ভাড় ছিলো । বিকেলে ঝড় শুরু হতেই কলকাতার আকাশ কুচকুচে কালো মেঘে ঢেকে যায় । অন্ধকার নেমে আসে শহরে এবং মুহূর্তের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার এবং দমদমে এই গতি ছিল ঘণ্টায় ৮৪ কিলোমিটার।
এই তীব্র ঝড়ের দাপটে উত্তর থেকে দক্ষিণ—কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার রাজপথে একের পর এক বিশালাকায় গাছ ও ডালপালা উপড়ে পড়ে। আলিপুর, বালিগঞ্জ, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ এবং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে গাছ পড়ে গিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। অফিস ফেরত সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
আরও পড়ুন-বাথরুমে পড়ে রইলেন রোগী! শান্তিপুর হাসপাতালে যুবকের মৃত্যুতে তুলকালাম বিক্ষোভ
ঝড় থামার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাস্তায় নামে কলকাতা পুরসভা (KMC) ও কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (DMG)। রাজপথ থেকে উপড়ে পড়া গাছ এবং ভাঙা ডালপালা কেটে রাস্তা পরিষ্কার করার কাজ শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। ট্রাফিক পুলিশ কর্মীরা রাস্তায় নেমে ট্রাফিক স্বাভাবিক করার আপ্রাণ চেষ্টা চালান। বেশ কিছু এলাকায় গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল সুরক্ষার স্বার্থে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হাওয়া বিশারদেরা জানিয়েছেন, ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের জেরেই এই জোরালো কালবৈশাখীর উৎপত্তি। আগামী আরও ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিশেষ করে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট বজায় থাকবে। ফলে গরমের থেকে রেহাই মিললেও ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া নদী ও ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

