নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : দেশের রাজধানী দিল্লির রোহিণী এলাকায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি বহুতল আবাসন বা বিল্ডিং ভেঙে পড়ার (Building Collapse) খবর সামনে এসেছে। এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছু মানুষের আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ভেঙে পড়া কংক্রিটের চাঙর এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিচে আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
রোহিণীর ওই বহুতলটি ভেঙে পড়ার পরই চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন-দিল্লিতে মতুয়াদের মহাসম্মেলন! হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে মহা সমাগম, উপস্থিত খাদ্যমন্ত্রী
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
বিল্ডিংটি ঠিক কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিক অনুমান, বহুতলটির কাঠামোটি বেশ পুরোনো বা জরাজীর্ণ ছিল। অথবা সম্প্রতি হওয়া কোনো নির্মাণকাজের ত্রুটির জেরে এই বিপত্তি ঘটতে পারে। তবে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম লক্ষ্য হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রাণগুলোকে দ্রুত এবং সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা।
আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো উদ্ধারকাজের তদারকি করছেন।
ভবনটি ভেঙে পড়ার পর কংক্রিটের বড় বড় চাঙর, ইট এবং লোহার কাঠামোর নিচে একাধিক ব্যক্তি আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ঠিক কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছে।
কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা জানতে ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন-অষ্টম শ্রেণির ওড়িয়া বইয়ে হিন্দি সিনেমার 'নিম্বুড়া' গান, সমালোচনার মুখে ওড়িশা সরকার
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক দল। পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।
ভারী কংক্রিটের চাঙর সরাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজ করছেন।
কাউকে উদ্ধার করা হলে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বহুতলটি কী কারণে ভেঙে পড়ল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ভবনের নির্মাণকাজে কোনও সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে।
একই সঙ্গে কাঠামোগত দুর্বলতা বা অন্য কোনও কারণ দুর্ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে নিশ্চিত বলে ধরা যাচ্ছে না।
ভবন ভেঙে পড়ার ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসনের আধিকারিকরা উদ্ধার অভিযানের উপর নজর রাখছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরেই দুর্ঘটনায় হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ছবি স্পষ্ট হবে। নতুন তথ্য সামনে এলে সেই অনুযায়ী খবরটি আপডেট করা হবে।

