নিউজ বাজার২৪ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোট-পরবর্তী হিংসা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ এবার সোনার পুর থেকে চড়ল হুগলি জেলায়। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হুগলির চণ্ডীতলা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালিয়েছে এবং সাংসদকে শারীরিকভাবে হেনস্থা ও মারধর করা হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের কথায় ক্ষিপ্ত জনতা জেগে উঠেছে। আমরা তো কর্মীদের সংযত থাকতে বলেছি ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
তৃণমূলের দলীয় সূত্রের খবর, হুগলির চণ্ডীতলা এলাকায় একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূলী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, চণ্ডীতলা সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানো মাত্রই আচমকা তাঁর পথ আটকায় একদল উত্তেজিত যুবক। তৃণমূলের দাবি, ওই যুবকেরা সকলেই স্থানীয় বিজেপি কর্মী ও সমর্থক।
গাড়ি আটকানোর পর প্রথমে সাংসদকে লক্ষ্য করে তীব্র কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ ও স্লোগান দেওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই আচমকা কল্যাণের ওপর চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, সাংসদের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে তাঁকে ধাক্কাধাক্কি এবং মারধর করা হয়। সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করেও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই আকস্মিক হামলায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় চণ্ডীতলা এলাকায় । ছুটে আসে তৃণমূলের অন্যন্য কর্মীরা ।
আরও পড়ুন-সোনারপুরে অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম-জুতো-ঝাঁটা বিক্ষোভ, কড়া হুঁশিয়ারি মমতার
তৃণমূলের অভিযোগ ও রাজনৈতিক ক্ষোভ
ঘটনার পরপরই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন বর্ষীয়ান এবং হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধিও এখন রাজ্যে নিরাপদ নন। পরাজয়ের হাতাশা থেকেই বিজেপি জেলাজুড়ে এই ধরনের হিংসাত্মক রাজনীতি ছড়াচ্ছে এবং তাঁদের দলের নেতাদের টার্গেট করছে। ইতিমধ্যেই চণ্ডীতলা থানায় বিজেপির স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
পাল্টা সাফাই বিজেপির
অন্যদিকে, এই মারধর ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সাথে তাঁদের দলের কোনো যোগ নেই। হুগলীর বিজেপি নেতা প্রণয় রায় জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জেলায় জেলায় পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে, আর সেই ক্ষোভ ঢাকতেই এখন সমস্ত দোষ বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকেও তৃণমূল রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি।
থমথমে চণ্ডীতলা, মোতায়েন পুলিশ
এই ঘটনার পর চণ্ডীতলা ও তার আশেপাশের এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল চলছে ,সাথে আছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

