সংবাদ প্রতিনিধি, নবদ্বীপ ( নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ): মাঝরাতে আচমকা ক্লাবঘরে পুলিশি অভিযান। আর তার জেরেই ভোররাতে গ্রেফতার হলেন নদিয়া জেলার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের একটি ক্লাবঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল ও শাড়ি উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
এই অবৈধ ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখার ঘটনায় সরাসরি পুরপ্রধানের যোগ থাকার অভিযোগে আজ, শনিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আজই তাঁকে নবদ্বীপ আদালতে তোলা হবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের পরিচিতি বরালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে আচমকাই অভিযান চালায় নবদ্বীপে থানার পুলিশ। ক্লাবের প্রায় ১০টি ঘর জুড়ে মজুত করে রাখা হয়েছিল সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের বিভিন্ন বছরের শাড়ি। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ হওয়া এই বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী কেন এবং কার নির্দেশে ওই ক্লাবে বছরের পর বছর মজুত রাখা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এলাকার অনেকেই দাবি করছে, প্রয়োজনে মানুষ চাইলেও পেতনা এই সব জিনিষ , তবে ক্লাবে কেন ?
স্থানীয় বাসিন্দা অজয় গাঙ্গুলি, প্রিয়াঙ্কা নাগের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ত্রাণসামগ্রীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্লাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে, ঘটনাস্থলটি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার পাড়াতেই এবং তাঁর ফ্ল্যাটের ঠিক পাশেই অবস্থিত। এই খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ এবং বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন- মালদার হিমসাগর বিদেশে যাচ্ছে না কেন? সামনে এল বড় কারণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বদলের ডাক
ত্রাণ চুরির অভিযোগে সরব হয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধীরা। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে গেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নবদ্বীপ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তাঁরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে একজন ক্লাব সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এরপর এই ঘটনার জল গড়ায় পুরপ্রধানের দিকে। বয়ানে অসঙ্গতি ও ত্রাণ মজুতের ঘটনায় সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগে ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ নবদ্বীপ পৌরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আজ (শনিবার) ধৃত চেয়ারম্যানকে নবদ্বীপ আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনার পিছনে বড়সড় কোনও দুর্নীতি চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার জেরে পুরভোটের মুখে শাসক শিবিরের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়ল।

