Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাস: এই পবিত্র পূর্ণিমায় কার পূজা হয়? কোন দেবতার কৃপায় মেলে অক্ষয় পূণ্য-জানুন বিস্তারিত

মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাস: এই পবিত্র পূর্ণিমায় কার পূজা হয়? কোন দেবতার কৃপায় মেলে অক্ষয় পূণ্য-জানুন বিস্তারিত

News Bazar 24 4 months ago

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত এক অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় উৎসব হল মাঘী পূর্ণিমা। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এই দিনটি ভক্তি, স্নান, দান, ব্রত ও পূজার মাধ্যমে পালন করা হয়। বিশেষ করে গঙ্গা ও অন্যান্য পবিত্র নদীর তীরে এই দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে।

শুধু ধর্মীয় নয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও মাঘী পূর্ণিমার গুরুত্ব অপরিসীম।

নিচে ধারাবাহিকভাবে মাঘী পূর্ণিমা সম্পর্কে সব গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো।

মাঘী পূর্ণিমা কাদের উৎসব

মাঘী পূর্ণিমা মূলত সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব। তবে এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে—

বৈষ্ণব সম্প্রদায় - ভগবান বিষ্ণু ও নারায়ণের আরাধনার জন্য

শাক্ত সম্প্রদায় - গঙ্গা ও দেবী শক্তির পূজা

সাধু-সন্ন্যাসী ও যোগীরা - বিশেষ করে তপস্যা ও দীক্ষা গ্রহণের জন্য

গৃহস্থ ভক্তরা - ব্রত, দান ও পূণ্যলাভের আশায়

পাশাপাশি, ভারতের উত্তর ও মধ্য ভারতে বসবাসকারী বহু আদিবাসী ও লোকায়ত ধর্মাচারী জনগোষ্ঠীও এই পূর্ণিমাকে বিশেষভাবে মান্যতা দেয়।

মাঘী পূর্ণিমায় কোন দেবতার পূজা হয়?

মাঘী পূর্ণিমায় প্রধানত ভগবান বিষ্ণুমা গঙ্গার পূজা করা হয়। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুযায়ী এই পূর্ণিমা তিথি বিষ্ণু-কৃপা লাভের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাঘী পূর্ণিমা কয় তারিখে পালিত হয়

মাঘী পূর্ণিমা পালিত হয় মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে।

সাধারণত এটি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পড়ে

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের তারিখ প্রতিবছর পরিবর্তিত হয়

সূর্য মকর রাশিতে অবস্থানকালে এই পূর্ণিমা হয়, তাই এর সঙ্গে মকর সংক্রান্তির যোগ রয়েছে

এই দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে অত্যন্ত পবিত্র বলে মানা হয়।

মাঘী পূর্ণিমার সময়সূচি (সাধারণ নিয়ম)

যদিও নির্দিষ্ট বছরভেদে সময় পরিবর্তিত হয়, তবুও শাস্ত্র অনুযায়ী সাধারণ নিয়ম হলো—

ব্রহ্মমুহূর্তে স্নান - সবচেয়ে শুভ

সূর্যোদয়ের সময় গঙ্গাস্নান - সর্বাধিক পূণ্যদায়ক

দুপুরে দান ও পূজা

রাতে পূর্ণিমা তিথিতে দীপদান ও ব্রত সমাপন

অনেকেই এই দিন উপবাস পালন করেন, কেউ কেউ ফলাহার বা নিরামিষ আহার করেন।

মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাস

মাঘ মেলা ও কল্পবাসের ইতিহাস

মাঘী পূর্ণিমার ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে মাঘ মেলা ও কল্পবাস প্রথা।

প্রাচীনকালে সাধু-সন্ন্যাসীরা মাঘ মাস জুড়ে নদীতীরে বাস করতেন

মাঘী পূর্ণিমার দিন কল্পবাস সমাপ্ত হতো

এই দিন লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়ে স্নান, দান ও ধর্মসভায় অংশ নিতেন

বিশেষ করে প্রয়াগ অঞ্চলে মাঘী পূর্ণিমা বহু শতাব্দী ধরে এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশের রূপ নিয়েছে।

 মধ্যযুগে মাঘী পূর্ণিমা

মধ্যযুগে রাজা-মহারাজারা মাঘী পূর্ণিমাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্ব দিতেন। ইতিহাসে দেখা যায়—

এই দিনে দরিদ্রদের মধ্যে অন্ন ও বস্ত্র বিতরণ করা হতো

মন্দির ও ধর্মশালায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হতো

পুণ্য অর্জনের আশায় রাজপরিবারও গঙ্গাস্নান ও দানে অংশ নিত

এই সময় থেকেই মাঘী পূর্ণিমা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

 আধুনিক যুগে মাঘী পূর্ণিমা

আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও নগরজীবনের প্রভাব পড়লেও মাঘী পূর্ণিমার ঐতিহ্য অটুট রয়েছে।

আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ পবিত্র নদীতে স্নান করেন

ধর্মীয় মেলা ও অনুষ্ঠান আয়োজন হয়

নদীতে যেতে না পারলেও মানুষ ঘরে বসে পূজা, দান ও নামস্মরণ করেন

ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মাঘী পূর্ণিমা আজও ভক্তি, মানবিকতা ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক

মাঘী পূর্ণিমার তাৎপর্য

মাঘী পূর্ণিমার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহুমাত্রিক—

১. পাপক্ষয় ও আত্মশুদ্ধি

শাস্ত্র মতে, এই দিনে গঙ্গা বা যে কোনও পবিত্র নদীতে স্নান করলে—

জন্মজন্মান্তরের পাপ নাশ হয়

মন ও আত্মা শুদ্ধ হয়

২. দান ও পূণ্যের দিন

এই দিনে বিশেষভাবে—

অন্নদান

বস্ত্রদান

তিল, ঘি, চাল, গুড় দান

করলে অক্ষয় পূণ্য লাভ হয়।

৩. ভগবান বিষ্ণুর কৃপা

মাঘী পূর্ণিমা বিষ্ণুভক্তদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাস করা হয়—'মাঘ পূর্ণিমায় বিষ্ণুনাম স্মরণ করলেই মোক্ষের পথ প্রশস্ত হয়।'

মাঘী পূর্ণিমার ব্রতকথা

একসময় এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ দম্পতি ছিলেন। তাঁদের জীবনে চরম দুঃখ-কষ্ট লেগেই থাকত। একদিন এক সাধু তাঁদের বললেন—'মাঘী পূর্ণিমায় গঙ্গাস্নান করে, সারা দিন উপবাস রেখে বিষ্ণু পূজা করো।'

দম্পতি সেই নির্দেশ মেনে—

ভোরে স্নান করলেন

সারাদিন উপবাস করলেন

সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে বিষ্ণু পূজা করলেন

এর ফলস্বরূপ তাঁদের জীবনের দুঃখ দূর হল, সংসারে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে এল।

এই ব্রতকথা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়—
বিশ্বাস, সংযম ও দানের মাধ্যমেই জীবনে কল্যাণ আসে।

মাঘী পূর্ণিমায় কী কী করা উচিত

✔ ভোরে স্নান
✔ পরিষ্কার বা সাদা বস্ত্র পরিধান
✔ বিষ্ণু/নারায়ণ পূজা
✔ গঙ্গা বা নদীর উদ্দেশ্যে প্রণাম
✔ দান ও সেবা
✔ অসত্য, হিংসা ও নিন্দা পরিহার

কী কী করা উচিত নয়

আধুনিক সময়ে মাঘী পূর্ণিমা

আজকের যুগে অনেকেই নদীতে যেতে না পারলেও—

ঘরে বসে স্নানের সময় গঙ্গাস্মরণ

অনলাইন বা সরাসরি দান

বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ

এর মাধ্যমে এই তিথির মাহাত্ম্য পালন করছেন।

এক কথায়

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News Bazar 24