নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদহ: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে মালদহবাসীর জন্য স্বপ্নের এয়ারপোর্ট । মালদহে একটি সম্পূর্ণ নতুন আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর (International Airport) গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।
পুরনো বিমানবন্দরটি বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় এবার জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন উপযুক্ত জমির খোঁজ। এই মেগা প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই ৩টি এলাকাকে প্রাথমিক তালিকায় সবার আগে বা 'হট লিস্টে' রাখা হয়েছে। তবে যখন পুরাতন এয়ারপোর্টে কাজ হবেই না, তবে কোটি কোটি টাকা কেন খরচ করা হলো এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।
এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)-এর বিশেষজ্ঞ দল আগেই জানিয়েছিল যে, মালদহ শহরের গা ঘেঁষে থাকা পুরনো বিমানবন্দরটিতে বড় বিমান বা বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। এর প্রধান কারণ হলো—
বিমানবন্দরের চারপাশে অনুমতি ছাড়াই বহু বহুতল ভবন গজিয়ে উঠেছে।
বড় বিমান ওঠানামার জন্য বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। সব মিলিয়ে পুরনো পরিকাঠামোকে আধুনিক রূপ দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলেই মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন-১০ জুন মালদায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ৪ জেলার আধিকারিক-জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসনিক মেগা বৈঠক
বিশাল আকৃতির বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামার উপযুক্ত জমির খোঁজে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বিমান সংস্থা যৌথভাবে পরিদর্শন শুরু করেছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য জমি চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে এই ৩টি এলাকাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: ১. গাজোল (Gazole) ২. আটমাইল (Atmile) ৩. নারায়ণপুর (Narayanpur)
মালদহ উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু এই উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, 'পুরনো বিমানবন্দরটি উপযুক্ত না হওয়ায় আমরা ছোটখাটো নয়, বরং সরাসরি জাতীয় অথবা আন্তর্জাতিক মানের নতুন এয়ারপোর্ট তৈরি করতে চলেছি মালদহে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গেও বিশদে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি দ্রুত এই পরিষেবা চালুর ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন ।
মালদহে আন্তর্জাতিক স্তরের বিমানবন্দর গড়ে ওঠার খবর আসতেই খুশির হাওয়া ব্যবসায়ী মহলে। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, 'মালদহে বিমান পরিষেবা চালু হলে জেলার বাণিজ্যিক ও শিল্পোন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বহু বছর ধরে জেলাবাসীর এই দাবি ছিল।' বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিমানবন্দর চালু হলে শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির সঙ্গেও দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে এবং কৃষি, রপ্তানি ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড়সড় জোয়ার আসবে। পাশেই বাংলাদেশ, ফলে আন্তর্জাতিক স্তরের বিমানবন্দর গড়ে উঠলে ভালো হবে।

