Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
মালদার হিমসাগর বিদেশে যাচ্ছে না কেন? সামনে এল বড় কারণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বদলের ডাক

মালদার হিমসাগর বিদেশে যাচ্ছে না কেন? সামনে এল বড় কারণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বদলের ডাক

News Bazar 24 1 month ago

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মালদা: আমের জেলা মালদা। বছরে যেখানে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর মতো 'রফতানিযোগ্য' বা ফার্স্ট ক্লাস কোয়ালিটির আমের আকাল কেন? মালদার হংসরাজ বা হিমসাগরের স্বাদ-গন্ধ অতুলনীয় হওয়া সত্ত্বেও কেন গায়ে কালো দাগের কারণে বিশ্ববাজারে তা পিছিয়ে পড়ছে?

এই খামতি দূর করতেই এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরের কৃষি বিজ্ঞানীরা।

গত ২৫ মে, ২০২৬ মালদার 'আইসিএআর-সিআইএসএইচ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র' (ICAR-CISH KVK)-এর কনফারেন্স হলে এপেডা (APEDA) এবং বিজ্ঞানীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল একটি মেগা ওয়ার্কশপ ও বায়ার-সেলার মিট। যেখানে জেলার প্রায় ১০০ জন অগ্রণী আম চাষি, রফতানিকারক এবং এফপিও (FPO) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে রফতানিকারক ডঃ অঙ্কুশ সাহা একটি বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, মালদায় এত আম হওয়া সত্ত্বেও রফতানির উপযোগী গুণমানের অভাবে তাঁদের বাধ্য হয়ে ওড়িশা থেকে আম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অন্য রফতানিকারকরা জানান, মালদার হিমসাগরের বিপুল চাহিদা থাকলেও আমের গায়ে কালো ছোপ বা দাগ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। মালদা ম্যাঙ্গ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা জানান, চাষিদের উন্নত কৃষি পদ্ধতি বা গ্যাপ (GAP), ফ্রুট ব্যাগিং এবং কোল্ড স্টোরেজ পরিকাঠামোর ওপর জোর দিতে হবে।

মালদা কেভিকে-র প্রধান ডঃ ডি কে রাঘব জানান, আমের গুণমান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে চাষিদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাগান পরিচর্যা ও ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। চাষিদের উৎসাহিত করতে চলতি বছরেই প্রায় আড়াই লক্ষ ফ্রুট ব্যাগ বিনামূল্যে বিতরণ করেছে ICAR-CISH। এর ফলে আমের গায়ে কোনো দাগ বা পোকার আক্রমণ হবে না এবং আমের সাইজও একরকম থাকবে।

আইসিএআর-অ্যাটারি (ICAR-ATARI) কলকাতার ডিরেক্টর ডঃ প্রদীপ দে চাষিদের নির্দেশ দেন, রফতানির নিয়মানুযায়ী আমে যেন কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ (Residue) না থাকে। তার জন্য নির্দিষ্ট লেবেল-যুক্ত কীটনাশক এবং সুসংহত পোকা নিয়ন্ত্রণ (IPM) ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া এপেডা (APEDA)-র আঞ্চলিক প্রধান এস কে মণ্ডল জানান, রফতানির জন্য অর্চার্ড রেজিস্ট্রেশন, ট্রেসেবিলিটি কোড এবং প্যাকহাউস প্রোটোকল মেনে চলা বাধ্যতামূলক।

এদিনের কর্মশালায় চাষিদের সচেতন করতে 'গ্যাপ' (GAP) পদ্ধতিতে চাষ হওয়া আম এবং সাধারণ আমের একটি তুলনামূলক প্রদর্শনী করা হয়। বিজ্ঞানীরা চাষিদের ফ্রুট ফ্লাই বা মাছি পোকা ধরার ফেরোমন ট্র্যাপ, ইয়োলো স্টিকি ট্র্যাপ এবং 'ফসল প্রভাত' অ্যাডভাইসরি সিস্টেম লাইভ ডেমো করে দেখান। সবশেষে বায়ার-সেলার সেশনে চাষিরা সরাসরি বড় বড় রফতানিকারকদের সাথে কথা বলেন। এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে মালদার আম ও লিচু সরাসরি বিদেশের প্রিমিয়াম মার্কেটে রাজত্ব করবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News Bazar 24