নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক , মেদিনীপুর: আরও একবার বাংলা তথা মেদিনীপুরের মেধার জয়জয়কার দেশজুড়ে। আইসিএসই (ICSE) পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে গোটা দেশের নজর কেড়ে নিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতনের কৃতি ছাত্র ঋতব্রত দাস। ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪৯৮ পেয়ে সে সম্ভাব্য সর্বভারতীয় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।
ঋতব্রতর এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির জোয়ার জেলাজুড়ে।
ঋতব্রতর এই সাফল্য কেবল নম্বরের বিচারে নয়, বরং প্রতিটি বিষয়ে তার গভীর দখলেরও প্রমাণ দেয়। তার প্রাপ্ত নম্বরের হার ৯৯.৬ শতাংশ। মেধাতালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, অঙ্ক, কম্পিউটার, বিজ্ঞান এবং ইতিহাস-ভূগোল—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সে পূর্ণ নম্বর অর্থাৎ ১০০ করে পেয়েছে। শুধুমাত্র ইংরেজিতে সে ৯৮ নম্বর পেয়েছে। এই অবিশ্বাস্য মার্কশিট দেখে রীতিমতো আপ্লুত তার শিক্ষক এবং অভিভাবকরা।
অনেকেই ভাবেন মেধা তালিকায় থাকতে গেলে হয়তো দিনরাত পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু ঋতব্রতর ফর্মুলা কিছুটা আলাদা। সে জানায়, প্রতিদিন ঘড়ি ধরে সময় বেঁধে সে পড়ত না ঠিকই, তবে নিয়মিত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা নিবিড় পড়াশোনা করত। ঋতব্রতের কথায়, 'আমার এই ফলের পেছনে কোনো গোপন রহস্য নেই। আমি সবসময় পাঠ্যবই বা টেক্সট বই খুঁটিয়ে পড়ার ওপর জোর দিয়েছি। বইয়ের প্রতিটি লাইন ভালো করে আয়ত্ত করতে পারলে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।'
মেদিনীপুর শহরের স্কুল বাজার এলাকায় ঋতব্রতদের বাস। তার বাবা চিনাংশুক দাস খয়রুল্লা চক নেতাজি বিদ্যামন্দির স্কুলের একজন অত্যন্ত সম্মানিত শিক্ষক। মা অপর্ণা দাস একজন গৃহবধূ। ছোট থেকেই পড়াশোনার একটি আদর্শ পরিবেশে বড় হয়েছে ঋতব্রত। ছেলের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যে মা-বাবা দুজনেই আবেগপ্রবণ। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে গল্পের বইয়ের পাতায় ডুব দিতে ভালোবাসে সে। গল্পের বই পড়াই তার ক্লান্তি দূর করার প্রধান মাধ্যম।
মেধাবী ঋতব্রত আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে। তবে এখনই সেই সাফল্যে থেমে যেতে চায় না সে। ভবিষ্যতে তার লক্ষ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT) কিংবা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (ISI)-তে পড়াশোনা করার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সে। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে দেশের বিজ্ঞান চর্চায় অবদান রাখতে চায় এই কৃতি ছাত্র।
মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর শিশু নিকেতন স্কুলের পক্ষ থেকেও ঋতব্রতকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। স্কুলের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ঋতব্রত অত্যন্ত বিনয়ী এবং পরিশ্রমী ছাত্র। তার এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

