Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
নারী ও শিশু সুরক্ষায় কি ফের হবে এনকাউন্টার? কামদুনি থেকে কালীগঞ্জ, উঠছে এক স্বর

নারী ও শিশু সুরক্ষায় কি ফের হবে এনকাউন্টার? কামদুনি থেকে কালীগঞ্জ, উঠছে এক স্বর

News Bazar 24 3 days ago

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতি এবং সমাজমাধ্যমে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই এনকাউন্টার নিয়ে এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিলেন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনির প্রতিবাদী মুখেরা এবং নিহত নির্ভয়া-কাণ্ডের তামান্না খাতুনের পরিবার।

অভিযুক্তের এই পরিণতিতে তাঁরা যেমন স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, তেমনই রাজ্য পুলিশের অতীতের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলতেও ছাড়েননি বাকিরা।

২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার অন্যতম প্রধান প্রতিবাদী মুখ টুম্পা কয়া বারুইপুরের এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন। তিনি বলেন, বারুইপুরের ঘটনায় পুলিশ যে পদক্ষেপ করেছে, তাকে আমি সমর্থন করি। অপরাধীর এই শাস্তিই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই একই তৎপরতা কামদুনির সময় কেন দেখা যায়নি তৃণমূলের পুলিশ ? কামদুনির দোষীরা তো সাজা পাওয়ার বদলে আদালত থেকে ছাড় পেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ওদের কি হবে, আদালত নয়, মামলা রি ওপেন করে পুলিশ ন্যায় দিক আমাদের। পুলিশ যদি তখন এমন কঠোর হতো, তবে কামদুনির মেয়েটি আজ বিচার পেত।

কামদুনির আরেক প্রতিবাদী মৌসুমী কয়াও জানান, অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এই ধরণের পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা যেন বেছে বেছে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য না করা হয়। এই ধরনের অপরাধের সাথে যুক্ত সবার সাথে যেন এমন হয়। রাজ্য সরকারের সাথে আমরা আছি।

আরও পড়ুন-বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের গুলিতে মৃত অভিযুক্ত প্রভাস! 'ভালই হয়েছে', বললেন মা ও স্ত্রী

'আমার মেয়ের বেলাতেও যদি এমন হতো!' আফসোস তামান্নার মায়ের

বিগত দিনে নৃশংস অত্যাচারের শিকার হওয়া তামান্না খাতুনের মা-ও বারুইপুরের এনকাউন্টার নিয়ে নিজের মনের চাপা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন মা হিসেবে তিনি বুঝতে পারেন সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর। বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবার যে দ্রুত বিচার বা শাস্তি চোখের সামনে দেখতে পেল, তা দেখে তাঁর নিজের পুরোনো ক্ষত আবার তাজা হয়ে উঠেছে।

তাঁর আক্ষেপ, আইনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমাদের বছরের পর বছর আদালতের চক্কর কাটতে হয়, অথচ অপরাধীরা জেলের ভেতরে বহাল তবিয়তে থাকে। ওরা আরও দস্যু হয়ে জেল থেকে বেরায়। আমার মেয়ের বেলাতেও যদি পুলিশ এমন কড়া পদক্ষেপ করত, তবে আজ আত্মা শান্তি পেত। মামলা রি ওপেন করে নতুন করে তদন্ত শুরু হোক । আমরাও চাই আমার মেয়ে ন্যায় পাক।

আরজি কর আবহে পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আমজনতা ও সমাজকর্মীদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে আরজি কর কাণ্ড বা জয়নগরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমজনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। পুলিশের ওপর থেকে আমজনতার বিশ্বাস যখন তলানিতে ঠেকেছে, ঠিক তখনই বারুইপুরে এই 'স্পট ডেড' বা এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল। দেরিতে হলেও বাম জামানা থেকে কাজ না করা পুলিশ যেন চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন-কারা পাচ্ছেন মাসে ৩ হাজার টাকা? অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন পোর্টালে দেখা যাবে তালিকা, এল বড় আপডেট

অনেকেরই দাবি, নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং জনরোষ থেকে বাঁচতেই কি পুলিশ এই গভীর রাতে 'এনকাউন্টার'-এর পথ বেছে নিল? নাকি সত্যিই অভিযুক্ত প্রভাস পুলিশকর্মীর বন্দুক ছিনিয়ে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হলো, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে ওয়াকিবহাল মহলে। তবে কারণ যাই হোক না কেন, রাজ্যের অন্য দল গুলি বিজেপি সরকারকে চাপে রাখতে ,যেই আওয়াজ তুলুক না কেন এটাই ঠিক পদ্ধতি- এমনই দাবি রাজ্যের অধিকাংশ মানুষের। যাই হোক কামদুনির অনেকেই মনে করছে, এক নৃশংস অপরাধীর এই দ্রুত পরিণতিতে অন্তত সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। আর অনেকেই দাবি করছে, শিশু , নাবালিকা ও মানব পাচারের সাথে পরোক্ষ ভাবে যুক্ত নেতা, মন্ত্রী , পুলিশ ও আমলদেরও সনাক্ত করে এই রকম শাস্তি দেওয়া হোক । নইলে এই বিষ ধ্বংস হবে না। কারণ কথাতেই আছে পুলিশের নির্দেশ ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News Bazar 24