Newsbazar24 Desk:শিলিগুড়ির শক্তিগড়ের শ্রী কেশব গোস্বামী গৌড়ীয় মঠ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র। প্রায় সাড়ে পাঁচ দশক ধরে এই মঠটি স্থানীয় মানুষের ভক্তি, সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে চলেছে। এই মঠ উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে ধর্মীয় বিশ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চর্চার এক পরিচিত কেন্দ্র হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে।
মঠে নিয়মিত প্রার্থনা, নাম সংকীর্তন :
সময়ের সঙ্গে শিলিগুড়ি শহর বদলেছে, বেড়েছে জনসংখ্যা, বদলেছে শহরের পরিধি—কিন্তু শক্তিগড়ের এই মঠ আজও ধরে রেখেছে তার ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের আবহ। মঠে নিয়মিত প্রার্থনা, নামসংকীর্তন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ঘিরে ভক্তদের সমাগম হয়।
এটি শুধু একটি উপাসনাস্থল নয়, শ্রী কেশব চন্দ্র গৌড়ীয় মঠ উত্তরবঙ্গের বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহু মানুষ এই মঠের সঙ্গে নিজেদের বিশ্বাস ও আবেগকে জড়িয়ে রেখেছেন।
শিলিগুড়ির ব্যস্ত শহুরে জীবনের মাঝেও শক্তিগড়ের এই মঠ যেন এক শান্ত, নির্মল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের ঠিকানা। ছয় দশকের পথ পেরিয়ে আজও ভক্তি ও ঐতিহ্যের সেই ধারা অব্যাহত। বহু বছরের ঐতিহ্য আজও ভক্তির আলোয় উজ্জ্বল শ্রী কেশব চন্দ্র গৌড়ীয় মঠ।
ইতিহাস ও অলৌকিক সূচনা :স্বপ্নাদেশ প্রাপ্তি: স্থানীয় বিশ্বাস ও ইতিহাস অনুসারে, আজ থেকে ৫০ বছরেরও বেশি সময় আগে নবদ্বীপের এক মহারাজ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মূল বিগ্রহ: মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে জগন্নাথ দেব, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীর অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও ভক্তিময় তিনটি বিগ্রহ রয়েছে। এই তিন মূর্তিকে কেন্দ্র করেই মঠটির আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয়।
ঐতিহাসিক রথযাত্রা উৎসব: মন্দির প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই এখানে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হয়। শিলিগুড়ি শহরের প্রাচীন ও সবচেয়ে জনপ্রিয় রথযাত্রাগুলোর মধ্যে শক্তিগড়ের এই রথযাত্রা অন্যতম।দীর্ঘ পথচলা: এই মঠের রথযাত্রা অত্যন্ত গৌরবময় ঐতিহ্যের সাথে ইতিমধ্যে তার ৫৬তম বর্ষ অতিক্রম করেছে। প্রতি বছর রথের দিন বিকেলে মঠ থেকে জমকালো রথ বের হয় এবং হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে।
স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রতিষ্ঠিত শিলিগুড়ির ঐতিহ্য আধ্যাত্মিকতার প্রাণকেন্দ্র শক্তিগড়ের গৌড়ীয় মঠ

