Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
স্মার্ট মিটার বসলেই কি চড়চড়িয়ে বাড়ছে বিল? রইল বিদ্যুৎ দপ্তরের আসল জবাব

স্মার্ট মিটার বসলেই কি চড়চড়িয়ে বাড়ছে বিল? রইল বিদ্যুৎ দপ্তরের আসল জবাব

News Bazar 24 2 months ago

নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক : এবার আপনার বাড়ির বিদ্যুতের বিল পুরোপুরি আসতে চলেছে ডিজিটাল মাধ্যমে। যা অনেকটা মোবাইল ফোনের মতোই, যত টাকা রিচার্জ করবেন—ঠিক তত টাকারই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। বিজেপি বিরোধী থাকার সময় আপত্তি জানালেও এখন পশ্চিমবঙ্গে পুরোদমে চালু হতে চলেছে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা।

কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা (WBSEDCL) সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে গোটা রাজ্যে প্রায় ২ কোটি প্রিপেইড স্মার্ট মিটার বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

আগামী জুলাই মাস থেকেই এই প্রক্রিয়া রাজ্যের সমস্ত ব্লক ও জেলা স্তরে ব্যাপক আকারে শুরু হতে চলেছে। তবে এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে যেমন কৌতুহল রয়েছে, তেমনই রয়েছে একরাশ আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। 'স্মার্ট মিটার বসলে কি বিল বেশি আসে?' কিংবা 'ব্যালেন্স ফুরিয়ে গেলেই কি হুট করে অন্ধকার হয়ে যাবে ঘর?'—আসুন জেনে নেওয়া যাক এর আসল সত্য ও নিয়মকানুন।

আরও পড়ুন- এসির আউটডোর ইউনিট কোথায় বসাবেন—ছাদে না বারান্দায়? ভুল হলে বাড়বে বিদ্যুৎ বিল

অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ, সাধারণ মিটার বদলে স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকেই নাকি বিদ্যুতের বিল একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মেছে যে, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার সাধারণ মিটারের চেয়ে অনেক দ্রুত চলে। কিন্তু বিদ্যুৎ দপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ 'ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও এই দাবি বা অভিমত নিউজ বাজার ২৪ এর নয়, (আমরা কাউকেই তেল দিয়ে খবর করি না ), কারন আমরা মনে করি মাইক্রপ্রসেস এর ভুল কাজ করা অস্বাভাবিক কিছু নয় ।

বিদ্যুৎ কর্তাদের দাবি মত, তাহলে কেন কিছু ক্ষেত্রে বিল বেশি দেখাচ্ছে? এর পেছনে রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং বৈজ্ঞানিক কারণ:

১. অতীতের ভুল বিলের সংশোধন: পুরোনো অ্যানালগ মিটারগুলোতে অনেক সময় অনিয়মিত রিডিং নেওয়া হতো এবং অনুমানের ভিত্তিতে কম বিল পাঠানো হতো। কিন্তু আধুনিক স্মার্ট মিটার অত্যন্ত নির্ভুল (Accuracy Standard ±১%)। এটি বসামাত্রই অতীতের কম করে দেখানো বা না-হওয়া বিলের হিসাব একবারে সংশোধিত হয়ে যায়, যার ফলে প্রথম দিকে বিল বেশি মনে হতে পারে। 2. ক্ষয়প্রাপ্ত পুরোনো মিটারের বিদায়: পুরোনো মেকানিক্যাল মিটারগুলো সময়ের সাথে সাথে ম্যাগনেটিক ক্ষমতা কমে যেত এবং প্রকৃত খরচের চেয়ে কম ইউনিট রেকর্ড করত। নতুন ডিজিটাল মিটার নিখুঁতভাবে আপনার ব্যবহার করা শেষ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিমাপ করে। ৩. ব্যবহারের সময়ভিত্তিক মূল্য (TOU): স্মার্ট মিটারে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে (পিক আওয়ার, যেমন সন্ধের সময়) বিদ্যুতের দাম বেশি থাকে। গ্রাহক যদি নিজের অজান্তেই ওই পিক আওয়ারে ভারী যন্ত্রপাতি (যেমন এসি, গিজার বা পাম্প) চালান, তবে ইউনিট সমান পুড়লেও বিলের অঙ্ক বেড়ে যাবে।

গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি কত চাপ পড়বে?

স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য গ্রাহকদের একবারে বড় কোনো টাকা দিতে হবে না। কেন্দ্র সরকার প্রতিটি মিটারের জন্য ৯০০ টাকা করে অনুদান দেবে। তবে বাকি খরচের জন্য উপভোক্তাদের ৯১ মাস ধরে প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে, যা মিটারের ভাড়া বা ইনস্টলেশন কস্ট হিসেবে কাটা হবে।

১ আগস্ট থেকে কড়া নিয়ম! বকেয়া না মেটালে মিলবে না বিদ্যুৎ

সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, পোস্ট-পেইড (আগে ব্যবহার, পরে বিল) থেকে প্রিপেইড (আগে টাকা, পরে ব্যবহার) ব্যবস্থায় যাওয়ার আগে গ্রাহকদের পুরোনো সমস্ত বিদ্যুতের বকেয়া বিল (Outstanding Dues) বাধ্যতামূলকভাবে মিটিয়ে দিতে হবে। এই বকেয়া মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা একটি বিশেষ নির্দেশিকা ও নিয়ম আনছে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে কড়াভাবে কার্যকরী হবে।

আরও পড়ুন - সাপে কামড়ানোর ভয়? এবার মোবাইলেই মিলবে আগাম সতর্কতা, সাহায্য করবে এই ২ অ্যাপ

স্মার্ট মিটারের সুবিধা কী কী?

বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তাদের মতে, এই মিটারে ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, বরং এটি গ্রাহকদের লাভজনক সুবিধা দেবে:

মোড বদলের স্বাধীনতা: গ্রাহক চাইলে তাঁর সুবিধা অনুযায়ী মিটারটিকে প্রিপেইড অথবা পোস্ট-পেইড—যেকোনো মোডে চালাতে পারবেন। ( WBSEDCL-এর নিজস্ব মতামত)

হিসাব থাকবে হাতের মুঠোয়: WBSEDCL-এর নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ খরচ, ব্যালেন্স এবং রিচার্জের যাবতীয় তথ্য রিয়েল-টাইম মনিটর করা যাবে।( WBSEDCL-এর নিজস্ব মতামত)

বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ: এই প্রযুক্তির ফলে হুকিং বা বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ হবে, যার সুবিধা সততার সাথে বিল দেওয়া সাধারণ মধ্যবিত্ত গ্রাহকরাই পাবেন।

মনে রাখবেন: ব্যালেন্স পুরোপুরি শূন্য (Zero) হয়ে গেলে কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তাই মোবাইলের মতোই ডেটা প্যাক ফুরানোর আগে সতর্কবার্তা দেখে রিচার্জ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদি আপনার মনে হয় মিটার ভুল দেখাচ্ছে, তবে দপ্তরের কাছে আবেদন করে থার্ড পার্টি এজেন্সির মাধ্যমে মিটার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার আইনি অধিকারও গ্রাহকদের রয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: News Bazar 24