বিশ্বজিৎ সাহা, কলকাতা:বুধবার রাতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর মাথায় পরপর তিনটি গুলি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটে মধ্যমগ্রামে। জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এই চন্দ্রনাথ। বিগত পাঁচ বছর ধরে তিনিই শুভেন্দুর সব কাজকর্মের দায়িত্বে ছিলেন।
কার্যত ছায়াসঙ্গী ছিলেন তিনি।
চন্দ্রনাথ রথের খুনের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, ''যারা বলছে হিংসা হচ্ছে, তারা কিন্তু হিংসা থামাচ্ছে না। কালকে বলেছি এগুলো যদি না থামে, তাহলে তার প্রতিরোধ করা হবে। এরকম পরিস্থিতি নেওয়া হোক। বিজেপি সারা ভারতবর্ষে প্রতিটি নির্বাচনে জিতছে, কোথাও কোনও মারধর-লুট করে না বিজেপি। ১৫ বছর ধরে আমরা অত্যাচার সহ্য করেছি। আর অত্যাচার চলবে না। গুলি বন্দুকের সংস্কৃতি আমরা বন্ধ করব। আমার মনে হয় এটা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশের দেখা প্রয়োজন যাতে আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকে।''
পাশপাশি দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ''যিনি পুলিশ মন্ত্রী ছিলেন, তিনি ড্রামা করতে ব্যস্ত। তিনি জীবনে কোনও সফলভাবে কিছু করেননি। এখন কি বলবেন? চিরদিনের জন্য তো আপনি চলে যাবেন। মানুষের সুরক্ষা কে দেবে! এই যে গুন্ডাদের নিয়ে আসছেন রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার ফল সকলকে ভুগতে হচ্ছে।''
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বাইকে করে এসে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গাড়িতে চন্দ্রনাথের সঙ্গে আর এক যুবকও ছিলেন। তাঁর নাম বুদ্ধদেব বেরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার সময় উল্টো দিক থেকে একটি গাড়ি তাঁদের রাস্তা আটকায়। এর পর বাইকে করে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বাইক আরোহীদের মাথায় হেলমেট ছিল। দু'জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চন্দ্রনাথকে বাঁচানো যায়নি।

