'মেয়ে হয়েছে'-এই দুটি শব্দ কখনও কখনও শুধু একটি সন্তানের জন্মের খবর নয়, একটি পরিবারের কয়েক প্রজন্মের অপেক্ষার অবসানও হতে পারে। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলতেই চিকিৎসকের কোলে ছোট্ট এক নবজাতক। মুহূর্তের মধ্যেই করিডরে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের চোখ ভিজে উঠল। কেউ হাত জোড় করে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানালেন, কেউ আনন্দে কেঁদে ফেললেন, কেউ আবার অবিশ্বাসে তাকিয়ে রইলেন সেই ছোট্ট মুখটির দিকে।
কারণ, এই পরিবারে টানা ৫২ বছর ধরে জন্মেছিল শুধুই ছেলে সন্তান। অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর সেই ধারায় এল এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। জন্ম নিল একটি কন্যাসন্তান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে ধরা পড়েছে এক বিরল আবেগের মুহূর্ত। চিকিৎসক যখন নবজাতককে অপারেশন থিয়েটার থেকে বাইরে নিয়ে আসেন, তখন পরিবারের সদস্যদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দ যেন বাঁধ মানছিল না। কারও চোখে জল, কারও মুখে বিস্ময়ের হাসি। যেন বহু বছরের এক স্বপ্ন বাস্তবের রূপ পেল।
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বেলা শাহ জৈন। তিনি লিখেছেন, "কখনও কখনও অলৌকিক ঘটনা ঘটতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অপেক্ষা করতে হয়। ৫২ বছর ধরে শুধু ছেলে সন্তান জন্মানোর পর অবশেষে এই পরিবারে এসেছে একটি কন্যাসন্তান। এই দিনটি তাঁদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।" এই একটি বাক্য যেন হাজারো পরিবারের অনুভূতিকে ছুঁয়ে গেছে।ভারতীয় সমাজে এক সময় ছেলে সন্তানের প্রতি বাড়তি আকাঙ্ক্ষার কথা আমরা বহুবার শুনেছি। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ অনেক পরিবারই কন্যাসন্তানের জন্মকে সমান আনন্দে উদ্যাপন করে। এই পরিবারের গল্পও সেই পরিবর্তনেরই প্রতিচ্ছবি।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নবজাতকের মা মুস্কান আগরওয়াল চিকিৎসক ডা. বেলা শাহ জৈনকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, "আমাদের এই দীর্ঘ যাত্রায় আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো পথটা সহজ করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের এবং আমাদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।" এই কয়েকটি লাইনে ধরা পড়ে চিকিৎসক ও রোগীর সেই গভীর সম্পর্ক, যা কেবল চিকিৎসার ৫২ বছরের অপেক্ষার পর একটি কন্যাসন্তানের আগমন সেই রকমই একটি গল্প। যে গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একটি শিশুর জন্ম শুধু একটি পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ায় না; কখনও কখনও তা বহু প্রজন্মের স্মৃতি, আশা আর আনন্দকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়।
হয়তো কয়েক বছর পর এই ছোট্ট মেয়েটি বড় হয়ে জানবে, তার জন্মের দিন শুধু তার বাবা-মা নয়, গোটা পরিবার চোখের জলে, হাসিতে আর ভালোবাসায় তাকে স্বাগত জানিয়েছিল। আর সেই কারণেই, এই গল্পটি শুধু একটি শিশুর জন্মের নয়-এটি অপেক্ষার, আশার এবং নিঃশর্ত ভালোবাসার গল্প।

