শিলিগুড়ি :প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর নামানো হল যুবককে। বুধবার বিকেলে আচমকাই ২৭০ ফুট উঁচু বিএসএনএল টাওয়ারে উঠে পড়ে এক যুবক। বার বার নেমে আসার অনুরোধ উপরোধেও কিছুতেই টাওয়ারের মাথা থেকে নামতে রাজি হয়না ওই যুবক। পরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষমেশ রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ নামানো হয় ওই যুবককে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উদ্ধারে নামে ক্যুইক রেসপন্স টিম, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ। যেন শুরু ছোটখাটো যুদ্ধ। জেদি যুবককে নামাতে শেষমেশ টাওয়ারে ওঠেন দুই পর্বাতোরোহী। সঙ্গে সিভিল ডিফেন্সের চার সদস্য। টাওয়ারের চারপাশে পাতা হয় বন দফতরের নেট। সেইসঙ্গে ড্রোন ক্যামেরায় চলে নজরদারি। উঁচু মোবাইল টাওয়ার থেকে নামানোর পর ওই যুবককে চিকিৎসার জন্যে পাঠানো হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।
প্রাথমিক ভাবে উদ্ধারকারীদের ধারণা, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। শিলিগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্রে ২৭০ ফুট উঁচু টাওয়ারের একেবারে মাথায় চড়ে বসেন ওই যুবক। এর ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতেই ঝাঁপিয়ে পরে উদ্ধারকারী দল । ড্রোন উড়িয়ে টাওয়ারের মাথায় যুবকের গতিবিধির উপরে নজর রাখতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টাওয়ারের নীচে চারপাশে নেট বিছিয়ে রাখা হয়।
যুবকের আব্দার মেনে টাওয়ারের উপরে মুরগির মাংস- ভাত, মিষ্টি এবং চকোলেট নিয়ে পৌঁছন উদ্ধারকারীরা। তার পরেও আবার ওই যুবকের আব্দার ওঠে তাঁকে পোস্ত দিয়ে কুমড়ো ভাজা খাওয়াতে হবে। এমনকি হেলিকপ্টারও চড়ানোর দাবি জানান ওই যুবক।
উল্লেখ্য এ দিন সন্ধ্যায় প্রথম ওই যুবককে টাওয়ারের মাথায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেন পুলিশে। এর পর একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী, ক্যুইক রেসপন্স টিম, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা। যুবককে বুঝিয়ে নামিয়ে আনতে টাওয়ারের মাথায় ওঠেন দুই পর্বতারোহী এবং সিভিল ডিফেন্সের দু জন কর্মী। প্রথমে খাবারের টোপ দিয়েও অবশ্য কাজ হয়নি। টাওয়ারের আরও মাথায় চড়ে বসে নতুন নতুন আব্দার জুড়ে দেন ওই যুবক।

