আবির ঘোষাল, কলকাতা:উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের পুনরুদ্ধার কাজে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি লাভ করেছে এবং আশা করা হচ্ছে যে, ২ নম্বর লাইনটি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাহাল করা যাবে। পুনরুদ্ধারের কাজ ত্বরান্বিত করতে এবং শীঘ্রই স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে প্রায় ৫০০ কর্মচারী দিন-রাত কাজ করছেন।
পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যাপকভাবে সহায়তা করার জন্য ২২টি পিসি এক্সকাভেটর, ১২টি জেসিবি ও ১৮টি ট্রাক্টরের পাশাপাশি নিউম্যাটিক ড্রিল ও হাইড্রোলিক পাইলিং রিগ-এর মতো বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন টিম ক্ষতিগ্রস্ত সেকশনটিকে শক্তিশালী করা, রেললাইনের পরিকাঠামো স্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুনরুদ্ধার কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
২০ জুলাই, ২০২৬ থেকে নিউ হারাঙ্গাজাও ইয়ার্ডে রেলওয়ে ফরমেশন ক্রমাগত বসে যাওয়াh এবং একপাশে সরে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যা স্বাভাবিক ট্রেন চলাচলের ওপর প্রভাব ফেলছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে, ট্রেন চলাচল শুধু লাইন নং. ৩ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণ প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন এবং স্থানীয় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থায় পরিবর্তনকে বিবেচনা করা হয়েছে, যার ফলে উপরদিকের পাহাড়ী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণের জল তীব্র বেগে ও ঘনীভূত আকারে প্রবাহিত হয়ে আসছে।
ভূগর্ভে পানী জমা হওয়ার ফলে ভূপৃষ্ঠের অনেক নীচেও জল জমেছে, যা রেলপথের কাঠামোর স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সুরক্ষিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনগুলি দ্রুত সচল করার লক্ষ্যে, ব্যাপক পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালীকরণের কাজ করেছে। এর মধ্যে ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট, জল নিষ্কাষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফরমেশনকে স্থিতিশীল করা রয়েছে।
বর্তমানে, ট্রেনের সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উন্নততর সুরক্ষা ব্যবস্থা-সহ ৩ নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ২ নম্বর লাইনের পুনরুদ্ধার সম্পন্ন হলে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কম সময়ের মধ্যেই এই সেকশনে আরও অধিক ট্রেন চলাচল করাতে সক্ষম হবে। তাছাড়া, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ১ নম্বর লাইনটি পুনরায় চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

