পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে সংকল্পপত্র প্রকাশ করতে এসে বাংলার সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউটাউনে বিজেপির কার্যালয়ের সভা থেকে তিনি বন্দে মাতরম সংগ্রহশালার কথা তুলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বন্দে মাতরম-এর ভিশনের মাধ্যমে বাংলার সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বন্দে মাতরম সংগ্রহশালা গড়ে তুলবো।" একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
যোগ্যতার ভিত্তিতেই চাকরি হবে। ঘুষের বিনিময়ে হবে না কোনও চাকরি।"
প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হল। রাজ্যে এসে একাধিক শীর্ষ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সংকল্প পত্র প্রকাশ করলেন অমিত শাহ। নিউ টাউনে সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য, শান্তনু ঠাকুর, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পল ও তাপস রায়।
বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলায় নিজেদের সংগঠন ও রাজনৈতিক বার্তা আরও শক্ত করতে সংকল্প পত্র প্রকাশ করল বিজেপি। সভামঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য 'কালরাত্রি' হিসেবে কেটেছে। দীর্ঘ দিনের বাম শাসনের পর পরিবর্তনের আশায় মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, "গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য কালরাত্রি হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কমিউনিস্ট অপশাসনের পর মানুষ পরিবর্তনের আশায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।"
তবে তাঁর অভিযোগ, সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং রাজ্যে অপশাসন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ এখন নতুন পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপি গত ১০ বছরে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।
সংকল্প পত্রে একাধিক প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্যে বিনামূল্যে ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং সর্বত্র প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব পরিষেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি এক দেশ এক আইনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি এবং বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।
গরু পাচার রোধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কোনওভাবেই গরু দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে বেকারত্ব কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেন।

