কলকাতা: শেষ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হেভিওয়েট নির্বাচন। আর দু-দিন, তারপরেই ফলপ্রকাশ। গণনা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাজ্যজুড়ে স্ট্রং রুমের পরিস্থিতি, তাতে নজর রাখা, গণনার দিনের স্টাটেজি সবকিছু নিয়েই এই মুহূর্তে মমতা-অভিষেক নজর রাখছেন। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছেন অভিষেক।
আগামিকাল কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করবেন অভিষেক। গতকাল কাউন্টিং এজেন্টদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বদলে দিতে পারে অনেক হিসাব। রাজ্যের একাধিক জেলা এবং বিধানসভা কেন্দ্র মানুষ চেনে তৃণমূল বা বিজেপির গড় হিসাবে। কিন্তু ২০২৬ সালের রেকর্ড ভোট হওয়ার পরে বহু হিসাব বদলে যেতে পারে। অনেক জায়গাতেই ভোট সুইং বিধাবসভা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮, কিন্তু সেই অঙ্ক ছুঁতে রাজনীতির সমীকরণ কতটা বদলায় তা-ই এখন চর্চার বিষয়।
ডায়মন্ড হারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় এবং গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা এলাকা তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ২০২৬ সালের ভোটে এই এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেখা গিয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ছে স্ট্রংরুমের। স্ট্রংরুমের সামনে এবার ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী থাকবেন কমিশনের আধিকারিক। নজরদারিতে থাকবে রিটার্নিং অফিসার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার মনোনীত একজন আধিকারিক। ২৪ ঘণ্টা ব্যাপী স্ট্রং রুমের সামনেই থাকবেন তিনি। এতদিন এখানে থাকতেন পুলিশ বা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক। স্টংরুমে যে ঢুকবেন তাঁকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিয়ে তবেই ঢুকতে হবে। স্ট্রংরুমের ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে ঘেরাটোপ রয়েছে, সেখানে আরও বাড়ানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা। বৃহস্পতিবার বাংলার জনগণের কাছে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
মমতার কথায়, 'রাতের বেলা নিজেরা থাকুন। প্রয়োজনে আমি পাহারা দেব। সবাইকে নিয়ম করে পাহারা দিতে হবে। কাউন্টিং সেন্টার থেকে গণনা টেবিলে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা ওরা করেছে। রেজাল্ট বেরনোর দিন, আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করব, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না টেবিলে যে গণনা হয়, সেটা কম্পিউটারে তোলার সময়ে বদলে যেতে পারে। আমাদের ফল ওদের দিয়ে দিতে পারে।'

