কলকাতা:বিধানসভায় সই জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে এবার তৃণমূলকে সরাসরি নিশানা বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের। আশঙ্কাপ্রকাশ করে জানালেন, ''গত ১৫ বছরে কোনও আমলা, মুখ্যমন্ত্রী কিম্বা অন্য কোনও মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের সই জাল করা হয়নি তো?'' এদিন তাপস রায় বলেন, ''পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে তো এই রকম ঘটনা তো নেইই গোটা দেশের ইতিহাসেও কোনও বিধানসভায় এই ঘটনা ঘটেনি।
এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। জালিয়াতি। আমাদেরও এবার সতর্ক থাকতে হবে।''
অন্যদিকে, সই জাল করার ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকলে সেক্ষেত্রে কী হতে পারে তা নিয়েও এদিন আভাস দেন বিজেপি বিধায়ক। বলেন, ''বিধায়করা সই জাল করলে স্পিকার ব্যবস্থা নিতে পারে, আর বাইরের কেউ করলে পুলিশ আইনে যা শাস্তি বিধান আছে তা দিতে পারে। হাতের লেখা যদি মিলে যায় তাহলে খুব বিপদ হতে পারে রাজনৈতিক দল তৃণমূলের।''
প্রসঙ্গত, ৬মে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা চেয়ে চিঠি দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা সেই চিঠি জমা পড়ে রাজ্য বিধানসভার সচিবালয়ে। যদিও সেই চিঠি পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় বিধানসভার সচিবালয়। জানানো হয়, বিধায়কদলের বৈঠকে সর্ব সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ বিধায়কদের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি দিতে হবে।
এরপরে, ১৯মে পুনরায় কালীঘাটে বিধায়কদলের এক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের চিঠি বিধায়কদের স্বাক্ষর সহ পাঠানো হয় বিধানসভার সচিবালয়ে। এই চিঠি পরীক্ষা করতে গিয়েই বিধানসভার নজরে আসে একাধিক সইয়ে গোলমাল আছে। আবার জানা যায়, কোনও কোনও তৃণমূল বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। তাঁদেরও সই রয়েছে চিঠিতে। এটা কীভাবে সম্ভব হল? তা নিয়েই ওঠে প্রশ্ন। গোটা ঘটনায় সই জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিল সিআইডির দল। গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষের বাড়িতেও। কথা বলা শুরু করেছে পুলিশ। বৈঠকে সত্যিই তাঁরা ছিলেন কি না সেটা দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে টাওয়ার লোকেশনের সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

