কলকাতা: এবার পাল্টি মমতার ভাই বাবুনের। ময়দানে পালাবদল হতেই রং বদলাতে শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন ওরফে বাবুন। ময়দানে টিকে থাকতে বাবুনের এবার ক্রীড়াপ্রেমী ফর্মুলা। বাবুন বলেন, "সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ করেছি, মদন মিত্রর সঙ্গে কাজ করেছি। অরূপের সঙ্গে কাজ করিনি।
বনিবনা হত না। অরূপ বিশ্বাস আমায় কাজ করতে দিত না। সুজিত বসু মিথ্যে কথা বলে হকি আমার থেকে নিয়ে নিয়েছে। নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে কাজ করতে চাই।" তিনি আরও বলেন, "দীর্ঘদিন আমি কোণঠাসা। বাড়ি থেকে আমি ত্যাজ্যপুত্র হয়ে গেছি। শুধু ভাইফোঁটা, রাখিতে দিদি ডাকত। আমার যন্ত্রণা কেউ বোঝে না"।
ফাটল ধরেছে দলের অন্দরেও। সোমবার ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। এর আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, এবার তৃণমূলে ভাঙনের সম্ভাবনা আরও জোরালো।মঙ্গলবারই কি বিধানসভায় চিঠি দেবেন ঋতব্রত-সন্দীপন? সূত্রের খবর, তৃণমূলে বেসুরো বিধায়কের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন। ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বহু তৃণমূল বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে প্রয়োজন ৫২ বিধায়ক। দুই বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮ হয়েছে। ৭৮ বিধায়কের দুই তৃতীয়াংশ ৫২ বিধায়ক, ঋতব্রত সন্দীপনদের দরকার আর ৫০ বিধায়কের সমর্থন।
সূত্রের খবর তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ২ বিধায়কের কাছেই রয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা। পর্যাপ্ত বিধায়কের সমর্থন আদায় কার্যত করে ফেলেছেন ঋতব্রত এবং সন্দীপন। MLA হস্টেলে বহিষ্কৃত ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে আড্ডা দেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক। বিধায়কদের অধিকাংশই মালদা-মুর্শিদাবাদের বলে সূত্রের খবর। সাক্ষাতের মাঝেই একের পর এক ফোন, মেসেজ প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়কদের। বাকি বিধায়কদের সমর্থিত চিঠি কি জমা পড়বে আজ মঙ্গলবারেই, এই নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর পথে নামছেন মমতা।

