কলকাতা: দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে গত শনিবার সন্ধেবেলা গ্রেফতার হয় একদা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ পাটুলি এলাকার দুঁদে কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। পুলিশের কাছে জমা পড়া অভিযোগ পত্র সামনে এসেছে বাপ্পাদিত্যদের তোলাবাজি, জুলুমবাজির একাধিক অভিযোগ। জানা গিয়েছে, গত বছর মে মাসে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত ও তাঁর শাগরেদরা অভিযোগকারীর বাড়িতে চড়াও হয়।
শুধু তাই নয় তাঁর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়াও চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত, ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। অভিযোগকারী ব্যক্তি বাঘাযতীনের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। হুমকি, টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও খুনের মতো অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে।
কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৮৯(২)/১২১(এ)/৩৫১(২)/৩২৪(৪)/৩২৯(৩)/৩২৯(৪)/৩২৬(জি)/৬২/৩০৮(৫)/৩(৫) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাটুলি থানায় তোলাবাজি ও হুমকি-দাদাগিরির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন কলকাতা-৭০০০৮৬-এর বাঘাযতীন প্লেস এলাকার এক মহিলা। তাঁর অভিযোগল ছিল, ২০২১ সালের ২ মে থেকে এবং তার পরবর্তী সময়ে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর বাড়ির সামনে বেআইনি ভাবে জড়ো হন। তারপরে অভিযোগকারিণীর বাড়িতে জোর করে ঢুকে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এমনকি বাড়িটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানোরও চেষ্টা করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অভিযোগকারিণীকে খুনের হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা জোর করে আদায় করে।
শনিবার প্রথমে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তর ঘনিষ্ঠ সৌরভ ঘোষকে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে এরা লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তুলত দোকান পিছু। ভয়ে ব্যবসা করতে পারতেন না তাঁরা। শুধু তাই নয়, পাটুলি ঝিলপাড়ে পাশে যে দোকান নির্মাণ হয়েছে সেই দোকান পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা তোলার দাবি করেছিল বাপ্পাদিত্য এবং এই সৌরভ ঘোষ। তোলা না দেওয়ায় দোকান দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সৌরভের গ্রেফতারির পরে থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গাড়ি থেকে কাউন্সিলর নামতেই তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে থানার ভেতরে নিয়ে যায়। পরে ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

