মালদহ: বিনামূল্যে মদ না দেওয়ায় মদের দোকানে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সিসিটিভিতে ক্যামেরাবন্দি হল রাতের অন্ধকারে ভাঙচুরের ছবি। পরপর দু'টি দোকানে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে দুই দোকানের মালিক। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহ থানার মঙ্গলবাড়ী ঘোষপাড়া এলাকাতে।
তদন্তে নেমেছে মালদহ থানার পুলিশ।
দোকানের মালিক কৃষ্ণ ঘোষের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা এলাকায় তোলাবাজি করে, রীতিমতো গুন্ডামি করে বেড়ায়। গতকাল, সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করার সময় একদল দুষ্কৃতী দোকানে বাকিতে মদ চায়। সে সময় মদ না দেওয়ায় রাতেই দোকান হাঁসুয়া, লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। দোকানের গেটে হাঁসুয়া কোপ মারে দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবার।
সকালে এই ঘটনায় মঙ্গলবাড়ী ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও বেলা পর্যন্ত এই ঘটনায় গ্রেফতার বা আটকের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। যদিও দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের আশ্রিত বলেই অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে মালদহের চাঁচলে ১৪ জন পঞ্চায়েত সদস্যের সদস্যপদ খারিজ হয়েছে। সদস্যপদ খোয়ালেন তৃণমূলের প্রধান, বিজেপির উপপ্রধানও। চাঞ্চল্যকর ভাবে প্রধান পদ পাওয়ার মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই সদস্য পদ খারিজ হল তৃণমূলের প্রধানের। শুধু তাই নয়, বিজেপি উপপ্রধানেরও সদস্য পদ খারিজ হয়েছে। মালদহের চাঁচল-২ ব্লকের ক্ষেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রধান, উপপ্রধান সহ মোট ১৪ জনের সদস্য পদ খারিজ করেছে চাঁচল মহকুমাশাসকের আদালত। তাঁদের মধ্যে রয়েছে তৃণমূলের প্রধান ছবি মণ্ডল-সহ তৃণমূলের ৭ জন।
অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের পরপর তিনটি সভায় হাজির ছিলেন না তাঁরা। এনিয়ে গত মে মাসে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সদস্য আব্দুল হক। শুনানিতে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় পঞ্চায়েত আইনে ১৪ জনের সদস্য পদ খারিজ করে মহকুমা প্রশাসনের আদালত।
জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে ২৭ টি আসনের ক্ষেমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ১৬, কংগ্রেস দুই, বিজেপি আট ও একজন আরএসপি থেকে জয়ী হয়। বিজেপি ও তৃণমূল বোর্ড গঠন করে। প্রধান হন তৃণমূলের শম্পা রানী সিনহা ও উপপ্রধান হন বিজেপির বাসুদেব ভুঁইয়া। সম্প্রতি প্রধান শম্পারানীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন তৃণমূলের সদস্যরা। তলবি সভায় শম্পারানী অপসারিত হন। গত ১৯ অগাস্ট নতুন বোর্ডে প্রধান হন তৃণমূলের ছবি মণ্ডল। কিন্তু প্রধান হওয়ার ১২ দিনের মাথায় সদস্যপদ খারিজ হয় তাঁর। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন পঞ্চায়েত পরিচালনা করবে প্রশাসন নাকি অবশিষ্ট সদস্যরা,তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সেবক দেবশর্মা, লিপেশ লালা

