স্বামীর সঙ্গে কোনও মেয়ের শুধু বিয়ের ছবি থাকা মানেই তাঁরা 'বর-বউ' প্রমাণিত হয় না। একক বেঞ্চের পর একই কথা বলল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চও। ডিভিশন বেঞ্চেরও পর্যবেক্ষণ, 'বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষীর প্রয়োজন।'
দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন আরপিএফ-এর এক এক কর্মী।
তাঁর চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। রেলের আপিল মামলা খারিজ করে এই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ২০২৪ সালে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিল, সেই নির্দেশই বহল রাখল ডিভিশন বেঞ্চও। আরপিএফ-এর ওই জওয়ানকে চাকরি ফেরত দিতে রেলকে নির্দেশ দিল বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদের ডিভিশন বেঞ্চ।
২০২০ সালে ওই আরপিএফ কর্মীর স্ত্রী রেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগে বিপাকে পড়েন আরপিএফ জওয়ান। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রথমে একটি প্রাথমিক তদন্ত করে। প্রাথমিক তদন্তের পর ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল ওই কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। এরপর বিভাগীয় তদন্ত চলে। পরে তদন্তকারী অফিসার অভিযোগ প্রমাণিত ধরে নিয়ে ওই আরপিএফ জওয়ানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
রেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই আরপিএফ কর্মী আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ, শুধু অভিযোগ করলেই দ্বিতীয় বিয়ে প্রমাণিত হয় না। রেজিস্টারের জেরক্স কপিতে বর, কনে বা সাক্ষীদের কোনও স্বাক্ষর নেই।
রেলের যুক্তি ছিল, অভিযোগকারী স্ত্রী তদন্তে এসে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সমর্থন করেছেন। 'মৌনীবাবা মঠ'-এর একটি রেজিস্টারে দ্বিতীয় বিয়ের নথি রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন বিয়ের একটি ছবিও প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও শুধুমাত্র ছবিকে বিয়ের প্রমাণ হিসেবে মানতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট।

