কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধোরের ঘটনায় একদিকে যখন তৃণমূল নেত্রী বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অন্যদিকে আবার গ্রেফতার ধৃতরা প্রত্যেকেই তৃণমূলেরই কর্মী বলে অভিযোগ তুললেন এলাকার মানুষ। আরও একধাপ এগিয়ে তাঁদের দাবি ধৃতরা সকলেই আদতে সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আকাশ গায়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গতকাল ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যাদের ছবি দেখা গিয়েছে তারা এলাকার 'ত্রাস' মৃত সঞ্জু কর্মকারেরই সহযোগী। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আকাশ গায়েন ও তাঁর সহযোগীরা অতীতে সঞ্জুর সঙ্গে এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের হুমকি দিতেন। এমনকি চার তারিখের পর গুলি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় জমি দখল, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল এবং অভিযুক্তরা সেই চক্রেরই অংশ।
শনিবারের ঘটনায় ধৃতদের মধ্যে অন্যতম আকাশ গায়েন। ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর কী বললেন তাঁর মা? আকাশের মা শঙ্করী গায়েন এখনও জানেন না ঠিক কী কারণে গ্রেফতার হয়েছে তাঁর ছেলে। এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত আকাশের মা নিজেই স্বীকার করে নিলেন, ছেলে তৃণমূল করত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার কোনরকম রাগ থাকার কথা নয়। তৃণমুলের বুথেও ছেলে বসত বলে দাবি তাঁর। কাল বিকেলে ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ঘরে এসেছিল আকাশ, তারপর ফুটবল খেলতে মাঠেও যায় সে, রাতেই পুলিশ তুলে নিয়ে যায় তাকে। বাবা ভ্যানচালক, ছেলে কোনও চাকরিবাকরি করত না।
অন্যদিকে ধৃতদের মধ্যে অপর একজন জয় সেনগুপ্ত। এলাকায় তৃণমূলের নেতা হিসেবে পরিচিত জয়। গতকালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও পরিবারের দাবি, সম্পূর্ণ মিথ্যা কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। শনিবারের ঘটনার সঙ্গে কোনরকম ভাবেই জয় যুক্ত ছিলেন না বলেও জানানো হয় পরিবারের সূত্রে। জয়ের স্ত্রী জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করেন জয়, ফল ঘোষণার পরেও দল বদল করেননি তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি রাগ তো দূর অস্ত, উল্টে গতকালের পরিস্থিতিতে অভিষেককে আসতে বারণ করেছিলেন জয়। তা সত্ত্বেও এসেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই জানালেন তাঁর স্ত্রী।
অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা হেমন্ত বসুর দাবি, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জয় সেনগুপ্ত তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। যদিও তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হল বোঝা যায়নি। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা। এছাড়া তাঁর দাবি, "কেউ দলের সঙ্গে যুক্ত নয় ফাঁসানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে। যাঁরা স্থানীয় বাসিন্দা তাঁরা আসলে সব বিজেপি কর্মী।"
অন্যদিকে ধৃতদের মধ্যে তপন মাইতি, সক্রিয় বিজেপি কর্মী বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর গতকালের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে। গতকালের ঘটনায় কাল রাতে তাকে আটক করে সোনারপুর থানা। দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী তপন। পরিবারের দাবি গতকাল উপস্থিত থাকলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিগ্রহ করার ঘটনায় আদৌ জড়িত ছিলেন না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ না থাকলেও এলাকায় বিজেপি করায় দীর্ঘদিন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে তাদের এমনটাই জানালেন তপন মাইতির মেয়ে তিয়াশা মাইতি।

