আগামী সোমবার বেলা ১২টায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করল সিআইডি। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এ দিন দুপুরে প্রথমে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি শান্তিনিকেতনের সামনে হাজির হয় সিআইডি-র একটি দল।
আইনি নোটিস দিতেই শান্তিনিকেতনে যায় সিআইডি। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পরেও অভিষেককে পায়নি সিআইডি। বাড়ির কর্মচারীরা জানান, ওই বাড়িতে শুধুমাত্র কয়েকজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই।
সিআইডি যখন শান্তিনিকেতনে যায়, তার কিছুক্ষণ আগে বেলেঘাটে ভোট পরবর্তী হিংসা মৃত দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক। এর কিছুক্ষণের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। অভিষেক জানিয়ে দেন তিনি হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে থাকে না।
এর পরই হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি থেকে কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। কয়েক মিনিট অপেক্ষার পর অভিষেক নিজে বাড়ির নীচে নেমে এসে সিআইডি আধিকারিকদের থেকে নোটিস নেন। অভিষেক জানিয়েছেন, তিনি নোটিস নিয়ে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলবেন। তদন্তে সহযোগিতাও করবেন এবং প্রয়োজনে তিনি হাজিরা দিতেও রাজি।
নোটিস হাতে নেওয়ার পর অভিষেক বলেন, 'ক্ষমতার অপব্যবহার কেউ করলে ক্ষমতায় বেশিদিন টেকে না। কিন্তু আমরা লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না। আমি মাথা নত করার ছেলে নই। দিল্লি কলকাতা মিলিয়ে আমি বারো বার ইডি সিবিআই-এর সামনে হাজিরা দিয়েছি। আমার তো লুকনোর কিছু নেই।'
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'যাঁরা মামলার তদন্ত করছেন সেই অফিসাররা জানেন না সাত বছর ধরে আমি ওই বাড়িতে থাকি না। হয়তো ওনাদের কাছে ভুল তথ্য ছিল। আমিও বুঝি ওনাদের চাকরি করতে হয়। আমি এখনও নোটিস পড়িনি।'
প্রসঙ্গত বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার পদ দেওয়ার জন্য তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে চিঠি দলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়, তার মধ্যে বেশ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয় বলে অভিযোগ। এর পরই হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানান বিধানসভার সচিব। ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। ইতিমধ্যেই নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা সহ কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতেও হানা দিয়েছে সিআইডি। এ দিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যায় সিআইডি-র একটি দল।

