কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। এদিন পাহাড়ের সমস্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়কালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর 'কার্নিভাল' করার প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বর্ষা এলেই প্রতি বছর ব্যাপক দুর্যোগের মুখে পড়ে পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভুটান পাহাড়ের জলে ভেসে যায় বহু গ্রাম-ঘরবাড়ি-পশু। মৃত্যু হয় মানুষের। সেই কারণেই আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, 'আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব পাহাড়ে যাবেন। তিনি কো-অর্ডিনেশন মিটিং করবেন। আমরা দেখেছি গত বার পাহাড়ে বিপর্যয়ের সময় সবাই কার্নিভালে ব্যস্ত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী তো পলিটিকাল লোক, কিন্তু অফিসাররাও কার্নিভালে ছিলেন। ডিজি, মুখ্যসচিব সবাই ৪৮ ঘণ্টা বাদে পৌঁছেছিলেন। আমরা আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে চাই। তাই বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব যাচ্ছেন'।
এছাড়াও উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, 'মুখ্যসচিবের মাধ্যমে একটা ইনকোয়ারি কমিটি তৈরি করতে বলেছি। অমৃত প্রকল্পে জল দেওয়ার জন্য। যে এজেন্সি কাজ করেছে তাদের ব্ল্যাক লিস্টেড করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবে। কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ হবে। ২ তারিখে টি বোর্ড-এর ডেপুটি চেয়ারম্যান, ৭ তারিখে মিউনিসিপাল অ্যাফেয়ার্স সচিব যাবেন।'
গত বছর অক্টোবর মাসে পুজোর পর পর প্রকৃতির ভয়াবহ রোষের শিকার হয়েছিল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। ১২ ঘণ্টায় ২৬১ মিমি বৃষ্টিতে ধসে যায় পাহাড়। অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দুধিয়া ব্রিজ ও রাস্তা ভেঙে বিপত্তির মুখে পড়েছিলেন বহু মানুষ। সেই সময় কলকাতায় দুর্গাপুজোর কার্নিভালে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্নিভালে আগে যোগ দিয়ে পরে উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত জায়গায় যাওয়া নিয়ে তখনও তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পালাবদলের পর শুক্রবার নবান্নের বৈঠকেও টেনে আনলেন সেই প্রসঙ্গ।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

