ওয়াশিংটন: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তিনি যে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন, সেটিকে তিনি ''দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা'' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে সেই অভিযান বাতিল করে তার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর লক্ষ্যে এবার তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে আমেরিকা।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, গাল্ফে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলি ওয়াশিংটনকে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের মতে, এমন হামলা হলে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প বলেন, "এখন আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কথা বলছি। আগামিকাল বিকেল থেকে সেই আলোচনা শুরু হবে, তারপর দেখা যাবে কী হয়।" তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।
আলোচনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কি না-এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, "কোনও সময়সীমা নেই। আমরা পরিস্থিতি দেখে এগোব। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে আমি কি একটি চুক্তি করতে চাই? অবশ্যই। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না… আমরা সেটা চাই না।"
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প আরও প্রকাশ করেন যে, বাতিল হওয়া সামরিক অভিযানটি "দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা" হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন, কারণ সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন এবং আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতার-সহ একাধিক দেশ তাঁকে সপ্তাহান্তে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না চালানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।
"আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম," ট্রাম্প বলেন। "তারা আমাদের থামতে বলেছে, কারণ তাদের বিশ্বাস একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি চুক্তি হবে, আর পারমাণবিক ইস্যুতেও একটি সমঝোতা হবে," তিনি দাবি করেন।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছিল। সংবাদ সংস্থাটি ট্রাম্পের এই দাবিকে "আরেকটি নতুন মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়" বলে মন্তব্য করেছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক উদ্যোগ তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত কৌশলেরই প্রতিফলন, যেখানে একদিকে তিনি কঠোর সামরিক হুমকি দেন, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাবও দেন। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, "ইরান যদি শান্তি আলোচনায় রাজি না হয়, তাহলে আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।" একই সঙ্গে তিনি অসামরিক পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন। এরপরই পাকিস্তানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে বিরল মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা কোনও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

