নয়াদিল্লি: দিল্লিতে নববিবাহিতার মৃত্যুর ঘটনায় বাড়ছে রহস্য। দক্ষিণ দিল্লির লোধি কলোনিতে ২৮ বছর বয়সি নববিবাহিতা আকৃতি সুতারের মৃত্যুর কারণে এখনও ধোঁয়াশা। খুন নাকি আত্মহত্যা? সেই প্রশ্নেই জটিলতা। এবার জানা গেল, মৃত্যুর দিনই তিনি দীর্ঘ ছুটির পর অফিসে যোগ দিয়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন আকৃতি।
পরিবারের দাবি, এসব কোনওভাবেই আত্মহত্যার ইঙ্গিত দেয় না, বরং আকৃতিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ আকৃতি তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন তিনি একেবারেই স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি জানান, অফিসের পার্টি শেষ করে বাড়ি ফিরছেন। আকৃতির কাকা মনঞ্জয় সুতার জানান, রাত প্রায় ৮টার দিকে আকৃতির স্বামী আরাস্তু সিক্কার কাছ থেকে ফোন আসে। তিনি দাবি করেন, আকৃতি নিখোঁজ। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে পুলিশ পরিবারকে জানায়, লোধি কলোনির পালিকা কুঞ্জ আবাসনে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে, যা পরে আকৃতির বলে শনাক্ত করা হয়।
জানা গিয়েছে, আকৃতি ছত্তরপুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ছিল পুষ্প বিহারে। সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লোধি কলোনির ওই আবাসনের নিচে শনিবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তাঁর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি বহুতলের ওপর থেকে পড়ে যান।
আকৃতির ২৪ বছর বয়সি ভাই অময় সুতারের দাবি, তাঁর দিদি মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং কোনও পরিস্থিতিতেই আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই আকৃতির স্বামী আরাস্তু সিক্কা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ২০ লক্ষ টাকা পণের দাবি করে আকৃতির উপর লাগাতার মানসিক নির্যাতন ও চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তাঁদের দাবি, আরাস্তু একাধিকবার আকৃতিকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছিলেন। মৃত্যুর মাত্র দু'দিন আগেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।
আকৃতি ও আরাস্তু প্রায় আট বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গত ২৪ এপ্রিল বিয়ে করেন। পরিবারের দাবি, আরাস্তু বর্তমানে বেকার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা-সব সম্ভাবনাই তদন্তের আওতায় রয়েছে।

