কলকাতাঃ রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বিধায়ক দিলীপ ঘোষের শনিবার ছিল জন্মদিন। সেই উপলক্ষে রবিবার ইকো পার্কে প্রাতভ্রমণকারীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করলেন মন্ত্রী।
কেকের অল্প অংশ মুখে দিয়েই হাসিমুখে তাঁর প্রতিক্রিয়া, "খুব মিষ্টি…"।
তাসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন এবং একটি অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামীকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'একজন লেখিকার লেখার সঙ্গে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু তাঁকে দেশছাড়া বা রাজ্যছাড়া করা ঠিক নয়।' তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকার তাসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে এনে সম্মান দিয়েছে। তবে যাঁরা একসময় তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের কেন একই মঞ্চে সম্মান দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করেছে। তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের সেকুলার ও বাঙালির প্রতিনিধি বলে দাবি করতেন, তাঁরা তাসলিমার পাশে দাঁড়াননি।
বীরভূমে মাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ এই ধরনের মাফিয়া চক্র। সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সকলের কাছেই আইনের হাত পৌঁছবে। মাফিয়াদের সহযোগীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকের মাধ্যমেই এই টাকা ব্যবহার করা হতো এবং এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব সামনে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমার বার্তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অপ্রাপ্তবয়স্করা ভুল করলে তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যারা ভারতের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করেছে, তাদের তিনি ধিক্কার জানান।
রাজ্যে বিজেপি নেতা ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, তোলাবাজির সংস্কৃতি এত দ্রুত দূর হবে না। অভিযোগ এলে পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এবং দলও বিষয়টির উপর নজর রাখছে। তাঁর দাবি, কিছু নেতা ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আচরণ বদলে ফেলছেন এবং যাঁরা আগে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে এবং ছয় মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন বিধায়কদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

