কলকাতা:কলকাতায় সিইও অফিসের বাইরে ব্যাপক জমায়েত তৃণমূল কংগ্রেসের। চলছে বিক্ষোভ। মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাজির রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা। চলছে ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা। উপস্থিত শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না বন্দোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা, শ্রেয়া পান্ডে সহ একাধিক কাউন্সিলর।
কমিশনের অফিসে যোগ দিয়ে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের বড় অভিযোগ। তার আগে এদিন কমিশনকে তোপ দেগে তিনি বলেন, 'আমরা বর্তমানে যা প্রত্যক্ষ করছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে- যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজেপি, আর নির্বাচন কমিশন (ECI) যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। মানুষের অধিকার রয়েছে এটা জানার যে, তাঁদের ভোটের সঙ্গে আসলে কী ঘটছে। এটি কোনও তুচ্ছ বিষয় নয়- বরং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তিই এর সঙ্গে জড়িত।'
তাঁর দাবি, 'আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন পাচ্ছি যে, বিপুল সংখ্যক 'ফর্ম ৬' (নতুন ভোটারদের আবেদনপত্র) অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে জমা দেওয়া হচ্ছে। এগুলি নিছকই সাধারণ বা রুটিনমাফিক সংযোজন নয়। গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হল, এই তালিকাভুক্তির অনেকের সঙ্গেই এমন সব ব্যক্তির যোগসূত্র থাকতে পারে, যাদের বাংলার সঙ্গে বাস্তবে কোনও সম্পর্কই নেই-এমন মানুষ যারা এখানে বসবাস করেন না, এখানে কাজ করেন না এবং এই রাজ্যের কোনও স্বার্থের সঙ্গেই যাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই।'
অভিষেক প্রশ্ন তুলেছেন, 'এই ভিডিওটি সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে যে, হাজার হাজার এমন ফর্ম প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে এবং স্তূপ করে রাখা হচ্ছে; যা এই কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সঙ্গত প্রশ্ন উত্থাপন করে। নির্বাচন চলাকালীন অন্যান্য রাজ্যেও আমরা অনুরূপ উদ্বেগের কথা উঠতে দেখেছি। বাংলাকে সেই পথে ধাবিত হতে দেওয়া কোনও ভাবেই চলবে না। একটু সময় নিয়ে ভিডিওটি দেখুন। প্রশ্ন তুলুন। কারণ এটি কেবল রাজনীতির বিষয় নয়-এটি আমাদের ভোটের পবিত্রতা ও অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়। বিজেপি বাংলার ওপর ঠিক এই ধরনের 'পরিবর্তন' (PARIBORTON) চাপিয়ে দিতে চাইছে। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।'
আবীর ঘোষাল

