হাওড়া:পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ইলেকট্রিক্যাল (জেনারেল) বিভাগ যাত্রী সুবিধা, শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন দক্ষতা উন্নত করতে প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেছে।পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডের নেতৃত্বে ডিভিশনে ২,৪২৫টি GPRS/RF-ভিত্তিক স্মার্ট এনার্জি মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়াও আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, বর্ধমান, হাওড়া এবং ব্যান্ডেল কলোনি এলাকায় ৯.৮৫ কিলোমিটার ওভারহেড LT লাইনকে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।
যাত্রীসুবিধা আরও উন্নত করতে ১৬৪টি ওয়াটার কুলার স্থাপন করা হয়েছে। স্টেশন ও গুডস ইয়ার্ডে ৭৪টি হাই মাস্ট টাওয়ারে ৩০০ ওয়াটের LED ফ্লাডলাইট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫৫টি স্টেশনে LED ব্যাটেন, স্ট্রিট এবং ট্রাঙ্ক লাইটের মাধ্যমে ব্যাপক আলোকসজ্জার উন্নতি করা হয়েছে।
হাওড়ার ডিভিশনাল রেল ম্যানেজার শ্রী বিশাল কাপুরের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ডিভিশন জুড়ে একাধিক উন্নত স্মার্ট মনিটরিং ও অটোমেশন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। তারকেশ্বর স্টেশনে নতুন ১২ মিটার দীর্ঘ ফুট ওভার ব্রিজ (FOB)-এর কনকোর্স এলাকায় আলোকসজ্জার জন্য ৪০ ওয়াটের ৫৬টি LED ট্রাঙ্ক লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে অধিকতর আলোকমাত্রা (lux level) এবং বিশ্বমানের নান্দনিকতা নিশ্চিত হয়েছে।
জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় ইএমইউ কারশেড, ঝিল সাইডিং টিকিয়াপাড়া এবং সালকিয়া এলাকায় স্থাপিত ৮টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেনেজ পাম্পকে রাডার সেন্সর এবং LoRa কমিউনিকেশন নোডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে। Sense-Transmit-Monitor-Respond-এই চার ধাপের ব্যবস্থার মাধ্যমে পাম্পগুলি পরিচালিত হওয়ায় ডাউনটাইম এবং ম্যানুয়াল শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হয়েছে।
বর্ধমান স্টেশনে স্বল্প ব্যয়ে বিভাগীয়ভাবে তৈরি একটি Escalator Fault Alert & Monitoring System চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ১০টি এসকেলেটরকে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। Watch-Alert-Verify-Escalate-এই চার ধাপের কর্মপ্রবাহের আওতায় প্যানেল লাইটের সংকেত, শ্রুতিসংকেত (audible alarm), CCTV-র মাধ্যমে অসামঞ্জস্য যাচাই এবং IR-NIYANTRAC-এর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ের যাচাই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও Coach 261135-এ AC Coach Remote Monitoring System-এর সফল পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় RDSO-অনুমোদিত VENUS মাইক্রোকন্ট্রোলারকে একটি cellular router-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে Roof Mounted Package Units (RMPU)-এর রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড পর্যবেক্ষণ, আগাম রক্ষণাবেক্ষণ (preemptive maintenance), Rail Madad-এর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্থিতিশীল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
এই সমস্ত উদ্যোগের সম্মিলিত ফলে প্রতিটি যাত্রীর জন্য রেলযাত্রা আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও আরামদায়ক হয়েছে বলেই দাবি পূর্বরেলের তরফে। আলোকিত প্ল্যাটফর্ম, অন্ধকার স্থান দূরীকরণ এবং নিরাপদ ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা স্টেশনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে, স্বয়ংক্রিয় ড্রেনেজ পাম্প ভারী জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষায় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব প্রতিরোধে সহায়তা করছে। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা যাত্রীদের স্বস্তি দিচ্ছে। এসকেলেটরের নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং প্ল্যাটফর্মে নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করছে; এবং রিয়েল-টাইম AC পর্যবেক্ষণ পুরো যাত্রাপথে কোচের অভ্যন্তরে ধারাবাহিক আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি এক বিবৃতিতে বলেন, "যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরিষেবার মানকে আধুনিকীকরণের বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পূর্ব রেল। হাওড়া ডিভিশন-জুড়ে এই প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত লাগাতার উন্নয়নগুলি রেলযাত্রাকে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপদ, দক্ষ এবং সকলের জন্য আরামদায়ক করে তোলার আমাদের নিরন্তর প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।"

